ছিনতাইকারীকে ধরে পুরস্কার

আমার মাথায় তখন একটি বিষয়ই কাজ করছিল

শেষের পাতা

মরিয়ম চম্পা | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৭
দক্ষিণ বনশ্রীর বাসা থেকে ১৭ই আগস্ট শুক্রবার যাত্রাবাড়ীর জুরাইনে আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন বেসরকারি ফার্মে চাকরিজীবী অন্তরা রহমান। যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুলের সামনে দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় হঠাৎ এক ছিনতাইকারী তার সঙ্গে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ও মোবাইল ফোন টান দিয়ে ভোঁ দৌড় দেয়। এ সময় নাছোড়বান্দা অন্তরাও রিকশা থেকে নেমে ছিনতাইকারীর পেছন পেছন দৌড়াতে থাকে। ঢাকার ব্যস্ত সড়কে লোকটির মুখটি ভালো করে দেখতে না পেলেও তার পরনের টি-শার্ট ও প্যান্টের কালারটা ভালো করে লক্ষ্য করেছেন। এসময় ঢাকার বাইরের একটি চলন্ত বাসে ছিনতাইকারী উঠেছে অনুমান করে ঝুঁকি নিয়ে অন্তরাও লাফিয়ে বাসটিতে উঠে পড়েন। অন্তরা মানবজমিনকে বলেন, বাসটি সম্পূর্ণ খালি ছিল। বাসের সামনে ড্রাইভার ও হেলপার ছিল। আর পেছনের সিটে এক ব্যক্তি গুটিসুটি মেরে বসে ছিল।


তাকে দেখেই আমার সন্দেহ হলো এই লোক সে, যে কিনা আমার ব্যাগ ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়েছে। ড্রাইভার বললো- আপা সমস্যা কি। আমি বললাম আপনাদের গাড়িতে একজন ছিনতাইকারী উঠেছে। তখন সে বললো আপনে যে লোকটাকে খুঁজছেন সে তো পেছনের বাসে উঠেছে। পরে আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করে ভালোভাবে খেয়াল করে দেখলাম- যে লোকটাকে আমি অনুসরণ করেছি সে এই লোক। একই রংয়ের টিশার্ট ও প্যান্ট পরে বসে আছে। তখন সঙ্গে সঙ্গে পেছনে গিয়ে লোকটিকে আমি টান দিলাম। দেখি লোকটি আমার ব্যাগের ওপর বসে আছে। আর আমার মোবাইল ফোন ওর প্যান্টের ভেতরে লুকানো ছিল। সেটাও খুঁজে বের করি।

তখন আমি খুব জোরে চিৎকার করছিলাম বাসটি থামানোর জন্য। বাসচালক বাসটি না থামিয়ে আরো জোরে টানতে লাগলো। এসময় রাস্তার কিছু লোক আমাকে চিৎকার করতে দেখে বাসটি থামালো। ছিনতাইকারী লোকটিকে বাস থেকে নামিয়ে আমি যখন চড়-থাপ্পড় দিলাম তখন সবাই জানতে চাইলো কি হয়েছে। বললাম এই লোকটা আমার ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করেছে। তখন পাশ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি এসে ধাক্কাধাক্কি করে লোকটিকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলো। এ সময় ছিনতাইকারী বললো- আপা আমাকে ছেড়ে দেন, গতকাল আমি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছি। ওর কথা শুনে মেজাজ আরো খারাপ হয়ে গেল।

আমি বললাম তাহলে তো তোকে আর ছাড়া যাবে না। তুই গতকাল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যেহেতু এই কাজ করেছিস, তাই আজকে ছেড়ে দিলে এর থেকেও ভয়ঙ্কর কাজ করবি। এসময় যাত্রাবাড়ী থানা থেকে দুজন পুলিশ অফিসার এলো। তাদের সহায়তায় লোকটিকে থানায় নিয়ে যাই। নিজে বাদী হয়ে একটি মামলা করি। এর মাঝে থানায় আমার আসা-যাওয়া ছিল। হঠাৎ একদিন যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াদুদ আমাকে ফোনে জানান যে, ডিএমপির একটি অনুষ্ঠানে আপনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তখন পর্যন্ত আমি জানতাম না যে, আমাকে পুরসৃ্কত করা হবে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে পুরস্কারস্বরূপ স্বীকৃতি পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত এবং উৎফুল্ল হয়েছি। আমি রীতিমতো ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমাকে এত বড় একটা সম্মাননা দেয়া হবে কখনোই ভাবিনি। তারা আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মাননা দিয়েছে সেটা আমার জন্য অনেক বড় একটা প্রাপ্তি।
চলন্ত বাসে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে যদি বড় কোনো সমস্যায় পড়তেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি গাড়ি চাপা পড়বো বা ছিনতাইকারী আমাকে আঘাত করবে এগুলো আমার মাথায় ছিল না।

আমার মাথায় একটি বিষয় কাজ করছিল- যেকোনো মূল্যে ওকে আমার ধরতে হবে। এবং পুলিশে দিতে হবে। ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনেক প্রতিবাদী এই সাহসী নারী অন্তরা। এমনটাই জানান তিনি। স্কুল-কলেজে পড়াকালীন কেউ তাকে টিজ বা বিরক্ত করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করতেন। পড়াশুনা শেষে বর্তমানে বিজয়নগরে একটি ল’ ফার্মে কর্মরত। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে অন্তরা রহমান মেজ। কাজের সুবাদে বাবা মাহবুবুর রহমান দুবাই থাকেন। মা গৃহিণী। স্বপ্ন ছিল একজন সফল পুলিশ অফিসার হওয়ার। সুযোগ পেলে একজন সৎ, যোগ্য, সাহসী ও দক্ষ পুলিশ অফিসার হয়ে দেশের সেবা করতে চান তিনি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ঋণ খেলাপি হওয়ায় চিফ হুইপ ফিরোজ নির্বাচন করতে পারবেন না: আইনজীবী

প্রেমিককে হত্যার পর...

সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন নয়

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আরব আমিরাতে বৃটিশ শিক্ষার্থীর জেল

বয়সের পার্থক্য ৪৫ বছর, দাম্পত্যের গোপন রহস্য

প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতিতে সুশাসন প্রয়োজন

বিএনপি নেতা গিয়াস কাদের চৌধুরী কারাগারে

১৫ ডিসেম্বরের পর মাঠে থাকবে সশস্ত্র বাহিনী

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আমরা অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছি

‘খাসোগি হত্যায় ক্রাউন প্রিন্সের বিচার চাওয়া সীমা লঙ্ঘন’

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে যা থাকছে

জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

পৌঁছামাত্র বাংলাদেশীদের ভিসা দেবে চীন

ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১০ জানুয়ারি

ঢাকায় ডেঙ্গু নিয়ে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন, এ বছর মারা গেছেন ১৭ জন

তৈরির পোশাক খাতের জন্য অশনি সংকেত