স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করলো যুবলীগ নেতা, সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে লাশ বাইরে

বাংলারজমিন

রিপন আনসারী/হাফিজ উদ্দিন, মানিকগঞ্জ থেকে | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
মানিকগঞ্জ ও সাভারের এখন আলোচিত নাম সেলিম মণ্ডল। তিনি ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য ও সাভার উপজেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি। নিজের দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যা করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন এই নেতা। ৫ই সেপ্টেম্বর ইতালি পালিয়ে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। গতকাল মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক নিভানা খায়ের জেসির কাছে ১৬৪টি ধারা জবানবন্দিতে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা আক্তার বকুল (২৫) হত্যার দোষ স্বীকার করেছেন। এ নিয়ে বিকালে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেলিম মণ্ডলের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের কাছে আয়েশা আক্তার বকুল হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা করেছেন।
পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, সাভারের ১৭/৪ মজিবপুরের একটি বাসায় আয়েশা আক্তার ভাড়া থাকতেন। ২রা আগস্ট রাতে স্বামী সেলিম মণ্ডল বাসায় প্রবেশ করে।
এরপর পূর্বপরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত তার স্ত্রী আয়েশা আক্তারের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে প্রচণ্ড মারধর করে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর তার সহযোগীদের সহায়তায় লাশ চাদর ও বিছানায় মুড়িয়ে ফেলে। রাতেই লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের ব্যবহৃত গাড়ি প্রস্তুত করে রাখে। লাশ নিয়ে বের হওয়ার আগে বাড়ির যেখানে যেখানে সিসি ক্যামেরা আছে সেগুলো সব বন্ধ করে। এরপর রাতের কোনো এক সময় লাশ নিয়ে চলে যায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের স্বরূপপুর এলাকায়। সেখানে পেট্রোল ঢেলে লাশের দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তার সঙ্গে আরো বেশ কয়েকজন ছিল। এরপর ৩রা আগস্ট সিংগাইর উপজেলার বায়রা গ্রাম থেকে আগুনে ৯০ শতাংশ ঝলসানো একটি তরুণীর লাশ উদ্ধার করে সিংগাইর থানা পুলিশ। পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে লাশটি মানিকগঞ্জ পৌরসভা কবরস্থানে দাফন করা হয়। সিংগাইর থানা পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করে। পরে মরদেহের ছবি দেখে আত্মীয়স্বজন আয়েশা আক্তার বকুলের লাশ বলে শনাক্ত করেন। আয়েশার বড় ভাই উজ্জ্বল হোসেন এ ঘটনায় সেলিম মণ্ডলকে প্রধান আসামি করে সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সেলিম মণ্ডল বেশ কিছুদিন পালিয়ে থেকে গত ২৮শে আগস্ট উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে অস্থায়ী জামিন দেন। অস্থায়ী জামিনে থাকা অবস্থায় সেলিম মণ্ডল গত ৫ই সেপ্টেম্বর রাতে দেশ থেকে পালিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে সিংগাইর থানা পুলিশের কাছে আটক সেলিম মণ্ডলকে হস্তান্তর করা হয়। গত ৬ই সেপ্টেম্বর আদালতে সেলিম মণ্ডলকে হাজির করে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় সিংগাইর পুলিশ। পরে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আরো পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই বুধবার সেলিম মণ্ডল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-০৯-১২ ২০:১৪:৫৬

আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের আবহাওয়া প্রচণ্ড গরম থাকায় মানুষের স্বভাব উগ্র এই ছিল পর্যবেক্ষণ । কিন্তু আশ্চর্য লাগে যখন দেখি বাংলাদেশের মানুষের স্বভাব তাদের চাইতেও হিংস্র । সামান্য মতানৈক্য হলেই খুন করে বসে।

আপনার মতামত দিন

রেনু হত্যায় প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেপ্তার

মা হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে তুবা

সেদিন যা ঘটেছিল বাড্ডার স্কুলে

বরিস জনসন বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী

সড়কে পৌনে ৫ লাখ ফিটনেসবিহীন গাড়ি

জাপার বিবাদ প্রকাশ্যে

পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতেই মানুষ হত্যা করা হচ্ছে

ডেঙ্গু শনাক্তে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভিড়

আক্তারকে মারধর নূর লাঞ্ছিত

ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি

সুযোগসন্ধানীরা যেন ফায়দা লুটতে না পারে -প্রেসিডেন্ট হামিদ

প্রধানমন্ত্রীর চোখে অস্ত্রোপচার

আশুগঞ্জে আলোচনায় ৬%, টার্গেট ৩৮ কোটি টাকা

নিখোঁজ ৩.৭০ কোটি হিন্দু বাংলাদেশি ভারতেই

কারাগারে এনামুল বাছির

সিলেটে তোলপাড় খালা-বোনঝির ‘ইয়াবা মিশন’