‘আলোক ফাঁদ’

বাংলারজমিন

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলার কৃষকদের কাছে এখন ধানে আক্রান্ত পোকামাকড় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বেশ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি ‘আলোক ফাঁদ’। দিন দিন উপজেলার কৃষকরা এই কৃষিবান্ধব পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৫৫টি ব্লকে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় সন্ধ্যায় আমন ফসলের খেতে পোকামাকড়ের উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এই ‘আলোক ফাঁদ’ স্থাপন করা হচ্ছে। বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষি বিভাগ প্রতি বছরের ন্যায় চলতি মৌসুমে আমন ধান ক্ষেতে আলোক ফাঁদের পদ্ধতি চালু করেছে।

সরজমিন গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, উপজেলার প্রায় সব এলাকায় আমন ধানের সাড়ি সাড়ি আইলে কোথাও পানিভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের ওপর আলো জ্বালিয়ে ধানে আক্রমণাত্মক নানা রকম পোকা মারা পড়েছে। কৃষকরা নিজেই নিজে জমিতে এই পোকাগুলোর উপস্থিতি দেখে ধানক্ষেতে পোকার আক্রমণের আগেই কোনো প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ না করে তা সহজে নিরুপণ করতে পেরেছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা নিজেই তাদের আমন ক্ষেতে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা পোকার আক্রমণের আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছেন। বর্তমানে এই ‘আলোক ফাঁদ’ ব্যবহার করে এলাকার অনেক কৃষকরা খুবই কম ওষুধ প্রয়োগ করছেন। এতে কৃষকদের অনেকটাই খরচ কমে আসছে এবং ধানের উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মতো সব উপজেলায় ধানক্ষেতে পোকামাকড় প্রতিরোধে এই পদ্ধতি একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৪৮ হাজার একর জমিতে আমন চাষে ৫৫টি ব্লকে ২২০টির মতো ‘আলোক ফাঁদ’ স্থাপন করে পোকামাকড়ের উপস্থিতি শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষি বিভাগ। কৃষি অফিসের অনুপ্রেরণায় কৃষকরা বর্তমানে এই ‘আলোক ফাঁদ’ পদ্ধতির প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপজেলার ফাঁসিয়াখালীর হাঁসের দীঘির গ্রামের কৃষক আশরাফ উদ্দিন খোকন, শহিদুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন, ছড়ারকুল গ্রামের আনোয়ার হাকিম দুলাল বলেন, ‘আলোক ফাঁদ ব্যবহারে উপকারে কথা স্বাকীর করে বলেন, তারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক লাভবান হয়েছি। সহজলভ্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ওই কৃষকরা খুব সহজেই ক্ষেতের পোকামাকড়গুলো নিধন করতে পারছেন। পোকামাকড়গুলোর উপস্থিতি চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন। এতে তাদের খরচ অনেকটাই কমে এসেছে। এটা পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক উল্লাহ বলেন, ‘আলোক ফাঁদ’ ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে একটি সফল ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে চাষিরা কোনো খরচ ছাড়াই খুব সহজে ফসলের ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত করে পোকার হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে পারবেন। আলোক ফাঁদে আটকা পড়া পোকামাকড় শনাক্ত করেন কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা।

তিনি আরো বলেন, আলোক ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে মূলত পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি জরিপ করার জন্য ১৮ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকায় ২২০টি আলোর ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। আলোর ফাঁদ বসিয়ে পোকা দমন অব্যাহত থাকায় ধান থেকে পোকা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এতে বাড়ছে ক্ষেতের ফসলের উৎপাদন এবং লাভবান হচ্ছে প্রান্তিক জনপদের কৃষকরা। এ কারণেই ফসলের শক্র ক্ষতিকর পোকামাকড়ের শনাক্তকরণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নির্বাচন বর্জন নয়, কেন্দ্র পাহারা দিন

হঠাৎ কবিতা খানমের সুর বদল

ফাঁকা মাঠে গোল নয়

রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্টে

সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের নির্বাচনে মনোনয়ন না দেয়ার দাবি

‘ফের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে’

মামলার বাদী যখন খুনি

ক্ষমতায় গেলে যেসব কাজ করবে ঐক্যফ্রন্ট জানালেন ডা. জাফরুল্লাহ

‘নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে’

বিএনপিতে মনোনয়ন যুদ্ধে সাবেক ছাত্র নেতারা

তলাফাটা নৌকা নিয়ে কতদূর যেতে পারেন দেখাতে চাই

সিলেটে জামায়াতকে ছাড় দিতে চায় না বিএনপি

রাষ্ট্র ভিন্নমতাবলম্বীদের সহ্য করতে পারছে না

নয়া মার্কিন দূত মিলার ঢাকা আসছেন আজ

পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মিলন

দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে নাগরিক ঐক্য