একনেকে ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকার ১৮ প্রকল্প অনুমোদন

আধুনিক ভবন পাবে ১৬৮১টি মাদরাসা

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
সারা দেশে ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৯১৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। মাদরাসা ভবন নির্মাণের জন্য ৩০০ এমপি শিক্ষামন্ত্রণালয়ে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগে ডিও (ডিমান্ড অব অর্ডার) দেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট এলাকার মাদরাসার দৈন্যদশা ও জরাজীর্ণতা উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যমান মাদরাসায় নতুন ভবন নির্মাণের আবেদন করেন। এর ভিত্তিতেই এক হাজার ৬৮১টি মাদরাসা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। এটি ছাড়াও আরো ১৮টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে একনেক।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৩ হাজার ৮১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪২ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাওয়া যাবে তিন হাজার ৯৩০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। এর আওতায় প্রতি এমপি প্রায় ২০ কোটি টাকার মাদরাসা ভবন উন্নয়ন করতে পারবেন। আইসিটিসহ সব ধরনের আধুনিক শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে এসব নতুন ভবনে। কম্পিউটার ল্যাবও থাকবে এসব মাদরাসা ভবনে। প্রতিটা ভবন হবে পাঁচতলা, নীচতলা ফাঁকা থাকবে। তারপরও শিক্ষার্থীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে ভবনের আকার-আয়তন। প্রাথমিকভাবে প্রতি এমপি প্রায় ছয়টি করে মাদরাসার বরাদ্দ পাবেন। প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৬৮১টি মাদরাসা ভবনে নতুন টেবিল চেয়ার কেনা হবে। বৃদ্ধি করা হবে স্যানিটেশন, পানি ও বৈদ্যুতিক সুবিধা। এ প্রকল্পসহ একনেক সভায় মোট ১৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ১৭ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে আর্থিক ও ভৌত অভিগম্যতার উন্নয়ন করা হবে। যাতে নগরবাসীদের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অপরিহার্য সেবা প্যাকেজের মাধ্যমে গরিবদের সেবা নিশ্চিত করা যায়। তিনি জানান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতার সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দরিদ্র মহিলা, নবজাতক ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং প্রকল্প এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে এক হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-২, এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন খরচ ধরা হয়েছে চার হাজার ৮১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পটুয়াখালী জেলার লোহালিয়া নদীর উপর নির্মানাধীন পিসি গার্ডার ব্রিজের অসমাপ্ত নির্মাণ কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১০২ কোটি টাকা। ফরিদপুর জেলার আড়িয়াল খাঁ নদের তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৯১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে হবে ৬৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, চট্টগ্রাম জোনের খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ৪২১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সমপ্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সাভারস্থ পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তিন মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন গবেষণা রিঅ্যাক্টর ফ্যাসিলিটির সেফটি সিস্টেমের সমন্বয় সাধন, আধুনিকীকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বর্ধিতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। জামালপুর জেলার ৮টি পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। রাজশাহী ওয়াসার ভূ-উপরিস্থত পানি শোধনাগারের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এছাড়া পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাস, ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ১৯৭১এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পাঁচুরিয়া-ফরিদপুর-ভাঙ্গা রেলপথ পুনর্বাসন ও নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৪৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। জামালপুর-ধানুয়া-কামালপুর-রৌমারী-দাঁতভাঙ্গা জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৩২ কোটি ১০ লাখ টাকা। বাংলাদেশের ১৩টি নদী বন্দরের প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের নির্বাচিত মাদরাসাগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে পাঁচ হাজার ৯১৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বরিশাল বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯২০ কোটি টাকা।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

তারা কেন এত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন?

সিনহার বই নিয়ে বাহাস

কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রথম দিককার চিঠি

নিউ ইয়র্কে দুটি অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র আশুরা আজ

তারুণ্যের ব্যর্থতায় লজ্জার হার

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে

মানবাধিকার ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে দুই সংস্থার উদ্বেগ

বাম জোটের কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত অর্ধশত

বিলে স্বাক্ষর না করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি সাংবাদিক নেতাদের আহ্বান

১০ কার্যদিবসের সংসদ অধিবেশনে ১৮টি বিল পাস

এখনো জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

জনগণের বিরুদ্ধে নয়, কল্যাণে আইন করতে হবে

ইতিহাস বদলাতে চায় বাংলাদেশ

গুজব শনাক্তকারী সেল কাজ করবে অক্টোবর থেকে

মেলবোর্নে সন্ত্রাসের অভিযোগ স্বীকার করলো বাংলাদেশের সোমা