ভীষণ ক্লান্ত জ্যাক মা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
আলিবাবা চালাতে গিয়ে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও চীনের শীর্ষ ধনী জ্যাক মা। সম্প্রতি তিনি এ সংস্থার চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৭ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটে এক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে আমেরিকান টিভি টকশোর উপস্থাপক চার্লি রোজ তার কাছে ব্যস্তা নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে জ্যাক মা বলেছিলেন, ২০১৬ সালে আমি ৮৭০ ঘন্টা শুধু বিমানেই কাটিয়েছি। আর এ বছর (২০১৭) ১০০০ ঘন্টা হয়ে গেছে। এখন আমি আমার অফিসে (অর্থাৎ দায়িত্বে থাকা অবস্থায়) মরতে চাই না। আমি একটি সমুদ্র সৈকতে মরতে চাই।

জ্যাক মা অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর তাকে নিয়ে প্রায় দিনই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পত্রিকা ও সংবাদ বিষয়ক ওয়েবসাইটগুলো খবর প্রকাশ করছে। সোমবার তাকে নিয়ে মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে ওপরের ওই কথাগুলো বলা হয়। এতে বলা হয়, চীনা বিলিয়নিয়ার আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিংয়ের নির্বাহী চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পগুলো যেন ঝাঁকুনি খেয়েছে। এ গ্রুপটির সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি রয়েছে এশিয়ায়। এ কোম্পানিটি সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পত্রিকার মালিক। জ্যাক মা তার অফিস স্টাফদের কাছে পদত্যাগ করার কারণ জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছেন। তাতে তিনি বলেছেন প্রযুক্তি বিষয়ক নতুন ও যুব প্রজন্মের কাছে তিনি পথ করে দিতে চান। তাই অবসরে যাচ্ছেন। তিনি গত কয়েক বছর ধরে পদত্যাগের পরিকল্পনার কথা বার বার বলে আসছিলেন। বার বার তিনি ব্যস্ত সফরসূচি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাকে আলিবাবার নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে আকাশে বিমানে থাকা ও সফরসূচিতে ব্যস্ততা নিয়ে বিরক্ত। একবার তিনি বলেছেন, যখন আমি আলিবাবার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে অবসরে যাবো, আমি আমার নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বলেছি, তখন সমুদ্র সৈকতে গলফ খেলার জন্য অধিক পরিমাণে সময় পাবো।
তবে আলিবাবা সৃষ্টি নিয়ে তার অনুশোচনাবোধ আছে। তার এ কোম্পানিটি পৌঁছে গেছে অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের র‌্যাংকে। এ নিয়ে তার মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একবার তিনি বলেছিলেন, তার সবচেয়ে বড় ভুল হলো আলিবাবা সৃষ্টি করা। এর কারণ, অস্বাভাবিক চাপ ও কাঁধে দায়িত্ববোধ। এ কোম্পানির মূলধন ৪২০০০ কোটি ডলার। এতে কাজ করেন ৮৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। সব কিছু ম্যানেজ করতে তার মাথা ঘুরে যায়। আলিবাবা সৃষ্টি করা তার ভুল- তার এই মন্তব্যটি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। তিনি বলেছেন, আমি আসলে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা করার চেষ্টা করছিলাম। এটা আস্তে আস্তে এত বড় হবে এমনটা চাই নি কখনো। বড় কোম্পানিতে দায়িত্ব অনেক। ঝামেলা অনেক।
২০১৬ সালের জুনে সেইন্ট পিটার্সবুগে ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে তিনি বক্তব্য রাখেন। সেখানে জ্যাক মা বলেন, প্রতিটা দিন কোম্পানির একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ব্যস্ত সময়। আমার মনে হতো আমার কোনো ক্ষমতাই নেই। আমার কোন জীবন নেই। আমি যদি দ্বিতীয় জীবন পেতাম তাহলে এরকম ব্যবসা আমি কোনদিন করতাম না। আমি আমার হয়েই থাকতাম। আমি জীবনকে উপভোগ করতে চাই।
এতবড় কোম্পানি চালাতে গেলে রাজনৈতিক সচেতনতা, বুদ্ধি ও হিসাব নিকাশ প্রয়োজন হয়। তা নাহলে চীনের মতো এত বড়ো দেশে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করা কঠিন হয়। তাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে তিনি নিজেকে আস্তে আস্তে মানিয়ে নেন। দলটির মূলনীতির ওপরে তাকে লেকচার দিতে হয়েছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিশানের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে চায়: কাদের

গণফোরামে যোগ দিলেন সাবেক ১০ সেনা কর্মকর্তা

খালেদা জিয়ার যথাযথ চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

‘তারেক রহমানের বিষয়ে ইসির করণীয় নেই’

আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি

দল ও জোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা চেয়ে ইসিকে বিএনপির চিঠি

'নির্বাচনী হলফনামায় ভুল তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেবে দুদক'

‘ভালো প্রার্থীদের জামিন না দেয়ার নতুন কৌশল নিয়েছে সরকার’

নির্বাচনের ইশতেহার প্রস্তুত করছে বিএনপি: আমীর খসরু

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আসিয়ানের পরবর্তী পদক্ষেপ কি?

প্রতি বছর দেয়া হবে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা সাজা স্থগিত চেয়ে খালেদার আপিল

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইইউ, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছতার প্রত্যাশা

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন যেনো প্রভাবিত না হয়

লক্ষ্য ক্রাউন প্রিন্সকে রক্ষা করা!