টিনএজ প্রেমে ‘ডেটিং ভায়োলেন্স’

রকমারি

| ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪১
সাইকেলটা দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড় করানো। বছর পনেরোর কিশোরের ছেঁড়া শার্ট, চোখে জল।পছন্দের মেয়েটির বাড়িতে সে দিন একটা জিনিস পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। দেরি হওয়ায় সম্পর্ক তো শেষ, উল্টে মারধরও জুটেছে খোদ মেয়েটির হাতে।

কয়েক বছর আগে ফেসবুকে এমন একটি ছবি নাড়া দিয়েছিল অনেককেই। যুক্তি-পাল্টা যুক্তি, বিশ্বাস-অবিশ্বাস পেরিয়ে ‘মেয়েদের হাতে মার খেলি’ গোছের সস্তা তামাশাও জুটেছিল সে ছবির কপালে। যেন মেয়েদের হাতে মার খাওয়ার ঘটনা বড়ই বিরল ও অবাস্তব! কিন্তু কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া (ইউবিসি) ও সিমন ফ্রেজার ইউনিভার্সিটি (এসএফইউ)-র গবেষণা কিন্তু সেই ‘ডেটিং ভায়োলেন্স’-এর ছবিকেই মান্যতা দিচ্ছে।

সম্প্রতি এদের যৌথ গবেষণা প্রকাশিত হয় ‘জার্নাল অব ইন্টারপার্সোনাল ভায়োলেন্স’-এ। তাতে দাবি করা হয়, টিনেজে বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিতে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোর-কিশোরীর সম্পর্কে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয় ছেলেটিই। গবেষকদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,২০১৭-তে ৫.৮ শতাংশ কিশোর তাদের কিশোরী প্রেমিকার হাতে মার খেয়েছে। নেহাত মজা বা খুনসুটির মার যা মোটেও নয়।
মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার শতকরা ৪.২ শতাংশ।যদিও আশার কথা, ২০০৩ সালে এই ধরনের অভিযোগ জমা পড়ার যে খতিয়ান তা ২০১৩-য় এসে খানিক কমেছে। ২০০৩-এ পুলিশের কাছে প্রায় ছয় শতাংশ টিনেজার কিশোর এমন অভিযোগ জানিয়েছিল। ২০১৩-য় সে হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে।সিমন ফ্রেজার ইউনিভার্সিটির পিএইডি-র ছাত্রী ও অন্যতম গবেষক ক্যাথরিন শাফারের মতে, বিশ্বের প্রায় সব দেশের সমাজ ব্যবস্থাতেই মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া নিয়ে আইনি রক্ষাকবচ আছে। ছেলেদের গায়ে হাত তোলা নিয়ে সে সব আইন অনেকটাই শিথিল। টিনেজ ডেটিংয়ে তারই শিকার ছেলেরা।এই ধরনের ছেলেদের মধ্যে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার প্রবণতাও বাড়ে। তবে দশ বছরের ব্যবধানে এই পরিসংখ্যান কমায় সুস্থ সম্পর্কের জোর বাড়ছে বলেই দাবি গবেষকদের।

প্রথমে কানাডা ও পরে উত্তর আমেরিকা জুড়ে এই গবেষণা চালান গবেষকরা। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সমীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সাত থেকে বারো বছর বয়সি প্রায় ৩৫,৯০০ জন কিশোর-কিশোরী। তাদের ব্যবহার, অভিজ্ঞতা, আবেগ ও সম্পর্ক নিয়ে মনোভাবের উপর ভিত্তি করেই রিপোর্ট তৈরি করেন গবেষকরা। তবে তাঁদের দাবি, গোটা বিশ্বেই এই ছবি কম-বেশি এক।

এলিজাবেথ সিউইক, ইউবিসি-র গবেষক-অধ্যাপক জানান, ‘‘আমাদের ধারণা রয়েছে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাধারণত, মেয়েরাই বেশি নরম অবস্থান নেন ও সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করেন ছেলেরাই। কিন্তু এই সমীক্ষা ধারণার উল্টো দিকটাই স্পষ্ট করছে।’’ স্কুল-অভিভাবক-আত্মীয়-বন্ধু সকলেরই এই সময় নির্যাতিত কিশোরের পাশে থাকা উচিত। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে প্রেমজ সম্পর্ক সংক্রান্ত সচেতনতাও আরও বৃদ্ধি করা উচিত বলে মতপ্রকাশ করেন তিনি।

সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আগাম জামিন পেলেন তরিকুল-খন্দকার মাহবুব-রেজাক খান

নওয়াজের আপিলের রায় আজ

আসামী ছিনতাইয়ের মামলায় সোহেল গ্রেপ্তার: পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যিক যুদ্ধে জিতবে কে!

‘রাজপথেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে’

তিন তালাককে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অনুমোদন ভারতে

শহিদুল আলমের জামিন আবেদনের শুনানি আগামী সপ্তাহে

দুই দিনের রিমান্ডে বাসচালক

ক্রিস্টিন ফোর্ডের যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং...

কুড়িগ্রামে কিশোর-কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে আরও ২০ কোটি টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ঘরে ফিরলেন সৌদি ফেরত আরো ৪২ গৃহকর্মী

খালেদা জিয়াকে দেখতে ফের কারাগারে যাবেন আইনজীবীরা

মিয়ানমারে নিলামে উঠছে সুচির ভাস্কর্য

নাটোরে রেলের ২৫৩০ লিটার চোরাই তেলসহ আটক ৩

রাখঢাক রাখছেন না পর্নো তারকা ডানিয়েল স্টর্মি