তাদের উদ্দেশ্য কি?

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার, ১০:২৪ | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২০
নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উস্কানি দিয়ে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দামি দামি লেখক-সাংবাদিকরা অপরাধ করলে তাদের অপরাধ কী কারণে অপরাধ নয়? লেখার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু লেখার মাধ্যমে দামি  লেখক-সাংবাদিকরা দেশটাকে  কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলেন, সে উপলব্ধি কি তাদের থাকবে না? উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অন্যায় হয়ে যাবে? গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৫ই আগস্টে নিহতদের স্মরণে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা শিশুদের নিয়ে খেলতে চেয়েছিল, শিশুদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিল, তারা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু। বাস দুর্ঘটনায় দুই শিশু মারা গেছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনে একদল উস্কানি দিয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা করেছি।  সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে উস্কানি দিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেয়ার  চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানি চিন্তা- চেতনা যাদের মধ্যে রয়েছে, যারা সবুর খানের বংশধর, তারা এর উস্কানিদাতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদের মধ্যে অনেক জ্ঞানী-গুণী, নামিদামি, অনেক বড় ইন্টেলেকচুয়াল, অনেক কিছু তারা।
তাদের রক্তের সূত্রটা কোথায়? যারা পাকিস্তানি চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী তাদেরই বংশধরদের থেকে শুরু করে অনেকেই এর সঙ্গে জড়িত। আবার তাদের ধরলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খুব হইচই হয়। কেন? যত বড়ই হোক না কেন কেউ যদি অন্যায় করে, কেউ যদি উস্কানি দেয়, ছোটো ছোটো কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার করতে চায় কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি মনে করেন খুব নামিদামি লেখক, সাংবাদিক, পণ্ডিত হলেই তাদের অপরাধ আর অপরাধ নয়। তাদের অপরাধ সব ধুয়ে মুছে যাবে। তারা প্রটেকশন পাবে। কেন? অনেকেই কি করেছে তা না জেনেই লেখেন। লিখতে পারেন খুব ভালো কথা। পত্রিকাও আছে। আর আমাদের সরকারের আমলে সবার বাক- স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা,  লেখার স্বাধীনতা, পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাধীনতা ভোগ করে যাচ্ছেন। কেউ কেউ সমর্থনে লিখেই ফেললেন। কিন্তু কি অন্যায়টা করতে চাচ্ছিলো, দেশটাকে কোনদিকে নিতে চাচ্ছিলো, সেটা কি তারা উপলব্ধি করেন? তারা অনেক জ্ঞানী, ভালো লেখক ও অনেক জনপ্রিয় হতে পারেন। কিন্তু তাদের ভেতরে কি দেশ ও জাতির জন্য এইটুকু দায়িত্ববোধ থাকবে না। তিনি বলেন, কেউ যদি এই ধরনের শিশুদের ব্যবহার করে তাদের ওপরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চায়, তাহলে কি তাদেরকে বাহবা দিতে হবে? আর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সেটাই কি অন্যায় হয়ে যাবে? দেশকে রক্ষা করা, দেশের মানুষকে রক্ষা করা- এটাই তো আমাদের কর্তব্য। প্রথম দুইদিন শিশুরা রাস্তায়। আপনারা দেখেছেন, সবাই ধৈর্য দেখিয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, রাজনৈতিক নেতাকর্মী সবাই। তাদেরকে সব রকমের সহযোগিতা করা হয়েছে। কিন্তু যখন তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গেল, দেখা গেল শার্টের ওপর স্কুল ড্রেস পরা। দর্জিরা হিমশিম খাচ্ছে স্কুল ড্রেস বানাতে। প্রচুর স্কুল ড্রেস তৈরি হচ্ছে আর সেগুলো পরে আসছে। কেউ ভাত মাখিয়ে খাওয়াচ্ছে। কেউ হা-করে ভাত নিচ্ছে। কিন্তু দেখা গেল হাতের নিচ দিয়ে স্কুল ড্রেসের নিচে শার্টের হাতা বেরিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বুড়োরা হঠাৎ শিশু হতে চাইলো কেন? উদ্দেশ্যটা কি? পেছনে ব্যাগ, ব্যাগের ভেতর থেকে দা বেরোচ্ছে, চাইনিজ কুড়াল বেরোচ্ছে, পাথর বেরোচ্ছে, লাঠিসোটা বেরোচ্ছে। স্কুলের ছেলেদের হাতে তো এগুলো থাকার কথা না। তাদের ব্যাগে তো বই থাকবে। সেখানে দা, চাইনিজ কুড়াল আর অস্ত্রশস্ত্র থাকবে না। তাহলে এরা কোন স্কুলের ছাত্র? তাহলে এদেরকে গ্রেপ্তার করলে তাদের দুঃখ, তাদের হাহাকার।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ার যেসব সাংবাদিক আমাদের দেশের তারা কি চোখ খুলে এসব দেখবেন না। উস্কানি দাতাদের গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গে আর্টিকেল লিখতে পারেন। আর এই যে অন্যায়গুলো করার চেষ্টা করেছিল, একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তাদের কি এর বিরুদ্ধে কলম ওঠে না? কলমের কালি ফুরিয়ে গেল? তারা লিখতে পারছেন না? তাদের ভাষা বন্ধ হয়ে গেছে। কেন বন্ধ হলো তাহলে? ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেল বলে? যে যতই বড়ই হোক কেউ যদি কোনো অন্যায় করে তার কি বিচার হবে না বাংলাদেশের মাটিতে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কোনোদিন খুনিদের রাজত্ব ফিরে আসবে না। বাংলাদেশের জনগণ আর কোনোদিন খুনিদের ক্ষমতায় আসতে দেবে না। খুনিদের রাজত্ব এদেশে আর আসবে না, আসতে দেয়া হবে না। মুজিব আদর্শের প্রতিটি সৈনিককেই এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে চলতে হবে, কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে যত বড়ই হোক, কেউ যদি কোনো অন্যায় করে তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবেই। যারা বংশপরম্পরায় এই চক্রান্ত করে যাচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণকে বলবো এদের সম্পর্কে আপনাদেরও সচেতন থাকতে হবে। কারণ, এরা বাংলাদেশের উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ, মানুষের ভালো দেখতে চায় না। শুধু নিজেরাই ভালো থাকতে চায়।’ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী  মোহাম্মদ নাসিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বক্তৃতা করেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম, সিমিন  হোসেন রিমি এমপি এবং  কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন আলোচনায় অংশ নেন। সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন আহকাম উল্লাহ। প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম স্মরণ সভাটি পরিচালনা করেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ঋণ খেলাপি হওয়ায় চিফ হুইপ ফিরোজ নির্বাচন করতে পারবেন না: আইনজীবী

প্রেমিককে হত্যার পর...

সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন নয়

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আরব আমিরাতে বৃটিশ শিক্ষার্থীর জেল

বয়সের পার্থক্য ৪৫ বছর, দাম্পত্যের গোপন রহস্য

প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতিতে সুশাসন প্রয়োজন

বিএনপি নেতা গিয়াস কাদের চৌধুরী কারাগারে

১৫ ডিসেম্বরের পর মাঠে থাকবে সশস্ত্র বাহিনী

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আমরা অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছি

‘খাসোগি হত্যায় ক্রাউন প্রিন্সের বিচার চাওয়া সীমা লঙ্ঘন’

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে যা থাকছে

জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

পৌঁছামাত্র বাংলাদেশীদের ভিসা দেবে চীন

ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১০ জানুয়ারি

ঢাকায় ডেঙ্গু নিয়ে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন, এ বছর মারা গেছেন ১৭ জন

তৈরির পোশাক খাতের জন্য অশনি সংকেত