শোকের দিনে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৬ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৭
জাতীয় শোক দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ১৫ই আগস্ট কালোরাতে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদদের প্রতি। জাতীয় শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে উচ্চারিত হয়েছে শোককে শক্তিতে পরিণত করে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকরের দাবিও উঠেছে শোক দিবসের কর্মসূচি থেকে। জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সারা দেশে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ই আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি দিনভর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ।
দিবসের কর্মসূচির শুরুতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সশস্ত্রবাহিনীর একটি চৌকস দল জাতির পিতাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

পরে ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্ট নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে, প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং নেতাকর্মীদের নিয়ে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাসভবনটি ঘুরে দেখেন। পরবর্তীতে জাদুঘরে রূপান্তরিত হওয়া বাড়িটিতে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা কিছু সময় অবস্থান করেন। পরে, প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে যান। যেখানে তার মাতা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল এবং ১৫ই আগস্টের শহীদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ এবং দোয়ায় শরিক হন। এদিকে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে ঢল নামে সাধারণ মানুষের। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয় ১৫ই আগস্টের শহীদদের প্রতি। নানা শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ বুকে কালোব্যাজ ধারণ করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, তাকে নিবেদিত কবিতা পাঠ ও গান বাজানো হয়। শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটিতেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা: এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সমাধিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল এ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায় এবং এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। তিনবাহিনীর প্রধানগণও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে সমাধি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবসহ ১৫ই আগস্টের সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুহম্মদ ফারুক খান, আব্দুল মতিন খসরু এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, আহমেদ হোসেন এবং ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ত্রাণ এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, শেখ হেলালউদ্দিন এমপি, শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে জাতির জনকের সমাধিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও নেতাকর্মীরা জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী সমাধি প্রাঙ্গণে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ এবং দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত মিলাদ এবং দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

মিলাদ মাহফিল: এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাদ আসর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, জামাতা খন্দকার মাশরুর হোসেন, শেখ রেহানার পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যগণ ও আত্মীয়-স্বজনরা মিলাদ মাহফিলে যোগ দেন। এ ছাড়া, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। মাহফিলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও ১৫ই আগস্টের অন্য শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বঙ্গভবনে মিলাদ মাহফিল: প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাদ জোহর বঙ্গভবনের দরবার হলে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেন। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রেসিডেন্ট পরিবারের সদস্য, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ সাইফুল কবির মোনাজাত পরিচালনা করেন। এর আগে বঙ্গভবনের দরবার হলে চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নির্বাচন নয়, প্রত্যাবাসন নিয়েই কূটনৈতিক ব্রিফিং: পররাষ্ট্র সচিব

বিশিষ্ট নাগরিকদের ইতিবাচক ভূমিকা চায় ঐক্যফ্রন্ট

নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইসির অধীনে আনা উচিত

পর্যবেক্ষকদের জন্য নির্বাচন পেছানোর দাবি অযৌক্তিক- কাদের

নির্বাচন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কূটনৈতিক ব্রিফিং বৃহস্পতিবার

পল্টনে অন্যরকম দৃশ্য

নির্বাচনে লড়তে চান শতাধিক শীর্ষ ব্যবসায়ী

‘হাসিনা: অ্যা ডটারস টেল’ মুক্তি পাবে ১৬ই নভেম্বর

আওয়ামী লীগ চায় নিজের লোক, মেনন বললেন ভিন্ন চিন্তা হলে ভোটই করবো না!

আওয়ামী লীগের ৯, বিএনপির ১০ মনোনয়ন প্রত্যাশী

রূপগঞ্জে আলোচনায় রফিকুল ইসলাম

শহিদুলের মুক্তি চাইলেন অরুন্ধতী রায়সহ দক্ষিণ এশিয়ার ৩৪ বিশিষ্ট ব্যক্তি

নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা বাম জোটের

বদলে যাচ্ছে মাঠের চিত্র

চলছে ভোটের হিসাবনিকাশ