ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন

চট্টগ্রামে টিকিটের লাইনে ভোগান্তি

শেষের পাতা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ১১ আগস্ট ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৭
কোরবানির ঈদে বাড়ি ফেরার আগাম টিকিটের জন্য শুক্রবারও চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে প্রচণ্ড ভিড় ছিল টিকিট প্রত্যাশীদের। এর মধ্যে ঘটে যায় বিপত্তি। অনলাইন সার্ভার বিকল হওয়ায় প্রায় দু’ঘণ্টা টিকিট বিক্রি করতে পারেনি স্টেশন কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে উত্তেজনাও দেখা দেয় টিকিট প্রত্যাশীদের মধ্যে। ভোগান্তিও পোহাতে হয় তাদের। তবুও জঞ্জাল কাটিয়ে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় টিকিট বিক্রি। বিকেলে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত ৮৬৯৩টি টিকিট বিক্রি করা হয়। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. আবুল কালাম আজাদ এ কথা জানান।

তিনি জানান, গত ১৭ই আগস্ট থেকে তিনদিনে চট্টগ্রামে প্রতিদিন ৮৬৯৩টি করে টিকিট বিক্রি করা হয়। সে মোতাবেক মোট ২৬ হাজার ৭৯টি টিকিট বিক্রি করা হয়েছে।

তিনি জানান, শুক্রবার ১৯শে আগস্টের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ঢাকাগামী ৬টি, চাঁদপুরগামী ৩টি, সিলেটগামী ২টি এবং ময়মনসিংহগামী একটি ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হয়। কিন্তু সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রির জন্য অনলাইনে সার্ভার সচল হচ্ছিল না।
এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয় টিকিট প্রত্যাশীদের মধ্যে। সার্ভার বিকল হওয়ার কথা জানিয়ে দ্রুত সারার চেষ্টার কথা বলে টিকিট প্রত্যাশীদের শান্ত করা হয়। পরে অনলাইন সার্ভার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান আইএনএসের টেকনিশিয়ানরা অনুসন্ধান চালিয়ে নগরীর সদরঘাটে চারটা পয়েন্টে অপটিক্যাল ফাইবার কেটে দেয়ার কথা জানায়, যা দ্রুত মেরামত করে সার্ভার সচল করা হয়। এ কাজ করতে দু’ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এ সময়ে টিকিট বিক্রি বন্ধ ছিল। এরপর সকাল ১০টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু করা হয়।

তিনি বলেন, দুই ঘণ্টা দেরিতে হলেও আমরা টিকিট বিক্রি শুরু করেছি। বিকেলে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত ৮৬৯৩টি টিকিট বিক্রি করি। আর টিকিটের জন্য আজও প্রচণ্ড ভিড় জমে স্টেশনে। তবে অপটিক্যাল ফাইবার কেটে দেয়ার বিষয়টি পরিকল্পিত নাশকতা বলে মনে করছেন তিনি।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকেও ঢাকামুখী ৬টি, চাঁদপুরগামী ৩টি, সিলেটগামী ২টি এবং ময়মনসিংহগামী ১টি ট্রেনের ৮৬৯৩টি টিকিট বিক্রি করা হয়। বৃহস্পতিবার বিক্রি করা হয় ১৮ই আগস্টের টিকিট। বুধবারও একইভাবে একই স্থানের সমপরিমাণ টিকিট বিক্রি করা হয়। এদিন ১৭ই আগস্টের টিকিট বিক্রয় করা হয়।
স্টেশন মাস্টার মো. জাফর জানান, স্টেশনের ৭টি কাউন্টার থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলছে। দুটি কাউন্টার থেকে বিক্রি হচ্ছে চলতি টিকিট। আজ শনিবার ২০শে আগস্ট এবং রোববার ২১শে আগস্টের টিকিট বিক্রি করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অবিক্রীত থাকলে ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তেও টিকিট বিক্রি করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনা করে ৯টি ট্রেনে ১৫টি বগি সংযোজন করা হবে। এর ফলে অতিরিক্ত ৮৮৮ জন যাত্রী ট্রেনে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পাবে।

কখন, কোথায় যাবে কোন ট্রেন: রেলওয়ে সূত্র জানায়, আগামী ১৭ই আগস্ট থেকে ট্রেনে অগ্রিম টিকিটের যাত্রীদের যাত্রা শুরু হবে। ওইদিন ঢাকাগামী সুবর্ণ সকাল ৭টা, চট্টলা সোয়া ৮টা, মহানগর এক্সপ্রেস দুপুর সাড়ে ১২টা, সোনার বাংলা বিকাল ৫টা, তূর্ণা-নিশিথা রাত ১১টা, ময়মনসিংহগামী বিজয় সকাল ৭টা ২০ মিনিট, সিলেটগামী পাহাড়িকা সকাল ৯টা, উদয়ন রাত পৌনে ১০টা, চাঁদপুরগামী মেঘনা সোয়া ৫টায় চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবে। ১৮ই আগস্ট থেকে চাঁদপুরগামী দুটি স্পেশাল ট্রেন চলবে। ওইদিন থেকে ২১শে আগস্ট পর্যন্ত চাঁদপুর স্পেশাল-১ সকাল সাড়ে ১১টা এবং চাঁদপুর স্পেশাল-২ বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম ছাড়বে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, ঈদুল আজহার দিন আন্তঃনগর কাউন্টার হতে কোনো অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে না। তবে বিকাল ৫টা হতে চলতি টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদের পরদিন একসঙ্গে ২ দিনের অগ্রিম টিকিট প্রদান করা হবে। অগ্রিম টিকিট বিক্রিকালে নির্ধারিত চলতি কাউন্টার থেকে প্রতিদিনের যাত্রার টিকিট ক্রয় করা যাবে।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ঈদের আগাম টিকিট বিক্রির শুরু থেকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, টিকিট কালোবাজারি রোধে স্টেশনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। টিকিট সংগ্রহকারীদেরও সহযোগিতা করছেন তারা। স্টেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও এ নিয়ে বিশেষ নজরদারির দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। ফলে গত তিন দিনে টিকিট কালোবাজারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমনকি কোনো বিশৃঙ্খল পরিবেশও তৈরি হয়নি।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ঈদের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহের কাজে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ কারণে স্টেশনে কোনোরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে স্টেশনের বাইরে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে নগরীর সদরঘাটে চারটা পয়েন্টে অপটিক্যাল ফাইবার কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এটি পরিকল্পিত নাশকতা বলে আমাদের ধারণা। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
তিনি বলেন, ঈদের আগে এবং পরে রেলের যাত্রাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে। রেলপথে কোনো রকম নাশকতা যাতে করতে না পারে তার জন্য অতিরিক্ত আনসার, পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন থাকবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কুয়েতের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের আহবান সৌদি প্রিন্সের

সম্প্রচার আইন অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

ঐক্যফ্রন্টকে আইনজীবি সমিতির অভিনন্দন

‘স্বনির্ভর চলাই সাদাছড়ি নিরাপত্তার প্রতীক’

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল স্থগিত

কৌশলে স্কুলছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের মামলার রায় ৯ নভেম্বর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেএমবি’র চার সদস্য গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ায় সড়কে চাঁদা উত্তোলন নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা-মিছিল বন্ধে আইনি নোটিশ

আরব-ইহুদি বিয়ে নিয়ে ইসরায়েলে তুলকালাম

ময়মনসিংহ পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা

খালি হাতেই বাংলাদেশে আসছে জিম্বাবুয়ে

এরদোগানকে বাদশাহ সালমানের টেলিফোন

‘প্রহসন যেন না হয়, গ্রহণযোগ্য আলোচনা চাই’ (ভিডিও)

শাহজালালে ৭ কেজি সোনাসহ আটক ১