সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে কমিশনের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন অসম্ভব

শেষের পাতা

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউ ইয়র্ক থেকে | ২২ জুলাই ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:২০
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা অসম্ভব। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান দুর্দশার অবসানে নাগরিক সমাজের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারতো। কিন্তু নাগরিক সমাজের অবস্থাও এখন খুবই করুণ। তাদের অনেকেই লেনদেনের প্রশ্নে বিক্রি হয়ে গেছেন। তাছাড়া দলগতভাবেও নাগরিক সমাজ দ্বিধাবিভক্ত। দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাপকভিত্তিক একটি জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের কোনো সমাধান হবে না।
তিনি বলেন, এই সংকট রাষ্ট্র ও সমাজের এতটা গভীরে বিস্তৃত হয়েছে যে, এর কোনো সহজ সমাধান নেই। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কাঙ্ক্ষিত জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর সম্মিলিত চাপ সৃষ্টি করতে হবে। এটিই এখন একমাত্র সমাধানের পথ। ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি জাতীয় সনদ প্রণয়ন এবং তার আলোকেই পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে সামনে আরো বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। কারণ, রাজনীতিকরা নিজ থেকে কোনো ধরনের জাতীয় ঐকমত্যের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ভয়েস ফর সিভিল রাইটস ইন বাংলাদেশ (ভিসিআরবি)-এর আয়োজনে এখানকার স্কলাস্টিকা লারনিং সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ মতবিনিময় সভা।

এতে সংগঠনের আহ্বায়ক কবি ও ছড়াকার শাহ্‌ আলম দুলালের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন প্রবীণ সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক মনজুর আহমেদ, লেখক শেলী জামান খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক তাসের মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন উত্তর আমেরিকা সংস্করণের নির্বাহী সম্পাদক লাবলু আনসারী, ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম, সংস্কৃতি কর্মী মিনহাজ আহমেদ, সাংবাদিক হাসানুজ্জামান সাকী, আলমগীর হোসেন এবং সাংবাদিক ও নাগরিক অধিকার কর্মী মনির হায়দার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ কমিউনিটি কর্মী বজলুর রহমান, এমএ মালেক, রেজা রশীদ, নুরুল আলম ও নুরুল হুদা, সাংবাদিক সাহেদ আলম, আকবর হায়দার কিরণ, মনিজা রহমান, নিহার সিদ্দিকী, শাহাব উদ্দিন সাগর, তুহিন সানজিদ ও আলমগীর হোসেন এবং ব্যবসায়ী মাহমুদ হোসেইন বাদশা, আব্দুল মান্নান ও মো. এনায়েত হোসেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কবলে পড়ে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিপর্যয়ের মুখে। নির্বাচনী ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন চরমভাবে মানুষের আস্থা হারিয়েছে। বিচার ব্যবস্থা নিয়েও মানুষের মধ্যে হতাশা। নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থা ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা কথা বলার অধিকার দারুণভাবে নিয়ন্ত্রিত। এ অবস্থায় কেবলমাত্র একটি নির্বাচন দিয়ে সংকটের সমাধান হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ও ব্যাপকভিত্তিক একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলোকে বাধ্য করতে হবে। সে জন্য নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সম্মিলিত চাপ সৃষ্টি জরুরি। তিনি বলেন, সংকট সমাধানের জন্য একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অবশ্যই অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কিন্তু নির্বাচনের আগে ও পরের বিষয়গুলো সম্পর্কেও জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করতে হবে। সেটা করা না গেলে একই রকমের সংকট ঘুরেফিরে আসবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বাজপেয়ী প্রয়াত

কোটা আন্দোলনের নেত্রী লুমা রিমান্ডে

তাদের উদ্দেশ্য কি?

ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি

সাইবার হামলার আশঙ্কায় সব ব্যাংকে সতর্কতা জারি

ঢাকার নিন্দা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব

বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা ও প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন

আমীর খসরুকে দুদকে তলব

রোহিঙ্গা প্রশ্নে চীন ও রাশিয়ার অবস্থান পাল্টায়নি এখনো

মহাসড়কে যানজট ঈদযাত্রার আগেই ভোগান্তি

যুবলীগ নেতার গ্রেপ্তার দাবিতে সড়কে এমপি

স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে ঈদ করা হলো না প্রবাসী নাছিরের

অতিরিক্ত গচ্চা ১১১ কোটি টাকা

পেট্রোবাংলার ৭ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন আজ

লুমা রিমান্ডে, ১২ ছাত্রের জামিন নামঞ্জুর