বড়পুকুরিয়ায় ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে | ২২ জুলাই ২০১৮, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৪
দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে তুঘলকি কাণ্ড নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। খনি থেকে উত্তোলনকৃত ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা ইতিমধ্যে গায়েব হয়ে গেছে। সূত্র মতে, ২২৭ কোটি টাকার বর্তমান বাজার দরের কয়লা হজম করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির পৃষ্ঠা ৫ কলাম ১
(বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও একজন মহাব্যবস্থাপককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও একজন মহাব্যবস্থাপক ও উপ-মহাব্যবস্থাপককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কয়লা খনি কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ।
ঘটনা তদন্তে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. কামরুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্ল্যানিং) আইয়ুব খান চৌধুরীকে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে বিসিএমসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। কয়লা খনি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমদকে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) করে পেট্রোবাংলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
গত বছর এপ্রিল মাসে তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কোম্পানি সেক্রেটারি ও মহাব্যবস্থাপক আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে সিরাজগঞ্জে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে। আর সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন, খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নূর-উজ-জামান এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলাম। বিসিএমসিএলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দায়িত্বে অবহেলার জন্য এই চারজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নথিপত্রের হিসাব অনুযায়ী, খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা যেখানে স্তূপ করে রাখা হয়, সেখানে মজুদ ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা। অথচ সেখানে এখন এক টন কয়লাও নেই বলে জানান কোম্পানির আরেকজন মহাব্যবস্থাপক। খনি কোম্পানির সূত্রে জানা গেছে, প্রতি টন কয়লার বর্তমান বাজার মূল্য ১৬ হাজার টাকা। সেই হিসাবে, হদিস নেই ২২৭ কোটি টাকার কয়লার।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সংলগ্ন কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হাকিম জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে চালাতে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু কয়লা সংকটের কারণে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটিতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটিতে এখন আংশিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। অপর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটিও পূর্ণ শক্তিতে চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য আবু সাঈদ কয়লাখনি এলাকা গত সোমবার পরিদর্শনে যাওয়ার পর কয়লা গায়েব হওয়ার কথা প্রথমে ধরা পড়ে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নতুন অভিযোগ

নির্বাচন যেনো দুধ-ভাত খেলা: ববি হাজ্জাজ

সিইসি অসহায়, বিব্রত: সেলিমা রহমান

রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নতি ও নৃশংসতায় দায়ীদের বিচার চায় যুক্তরাষ্ট্র

সিংড়ায় বিএনপি প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন

বিকালে আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে করবে বিএনপি নেতারা

৩০শে ডিসেম্বরের পর আওয়ামী লীগের খবর পাওয়া যাবে না: মওদুদ

যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্তি প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের

অভিযোগ নিয়ে ইসিতে বিএনপি প্রতিনিধিদল

সাতক্ষীরায় বিএনপি সমর্থকদের বাড়িঘর ও দোকান ভাংচুর

ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত পাকিস্তান, চীন, সৌদি আরব...

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ বাড়ছে

টুক ও দুলুর মনোনয়ন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ

কুষ্টিয়ায় নির্বাচনী কার্যালয় থেকে শহর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আটক ১৮

আফরোজা আব্বাসের প্রচারণায় ছাত্রলীগের হামলা

বিকালে সিলেট থেকে প্রচারণায় নামছে ঐক্যফ্রন্ট