ফ্রান্স জিতলে জিতে যাবে অভিবাসীরা!

টুকরো খবর

নিয়াজ মাহমুদ, ফ্রান্স থেকে | ১৫ জুলাই ২০১৮, রোববার
বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্স জিতলে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী বা অভিবাসীরাও জিতে যাবে। তারা 
পাবে এখানকার রেসিডেন্ট পারমিট বা থাকার অনুমতি। ফ্রান্স সেমিফাইনাল থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর পরই দেশটির বড় শহর প্যারিস ও লিওনের বাংলাদেশিসহ এশিয়ান কমিউনিটিতে এমনই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালের বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এ নিয়ে টানটান উত্তেজনা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। পাশাপাশি স্বপ্নে বিভোর অভিবাসীরা। অভিবাসীদের প্রার্থনা ফ্রান্স জিতলেই ঘুরে যেতে পারে তাদের ভাগ্যের চাকা! তবে এক প্রশ্নে প্রসঙ্গটিকে হেসে হেসে শুধুই গুঞ্জন বলে অভিহিত করেছেন ফরাসি নাগরিক এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে কাজ করা ইমানুয়েল আহমেদ। ফ্রান্সের ২৩ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ১৬ জনই অভিবাসীদের সন্তান।
শুধুই ফ্রান্স নয়, ইউরোপের জন্যও তারা বোঝা নয়। গর্ব। তাই বিষয়টি গুঞ্জন হলেও এমন স্বপ্ন দেখতেই পারেন অভিবাসীরা- মনে করেন ফরাসি নাগরিক ও প্যারিসের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কল্যাণ বড়ুয়া। “ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় ও অভিবাসন” পেজের মাধ্যমে অভিবাসীদের সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি অনুবাদক হিসেবে এখানে কাজ করেন সৈয়দ আবুল হাসান। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে এখানকার রেসিডেন্ট পারমিট পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ২০০৬ বিশ্বকাপে ইতালি জয়ী হওয়ার পর জয়ের আনন্দে ঝুলে থাকা অভিবাসীদের সেখানকার সরকার রেসিডেন্ট পারমিট দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন মাদারীপুর জেলার প্যারিসের বাসিন্দা মাসুদ চোকদার। এদিকে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আইন সংস্কার করছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। যা ইতিমধ্যে এখানকার সংসদে ও সিনেটে পাস হয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক আশ্রয় অনেকটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি আবার ট্যালেন্ট ও ইনভেস্টরদের স্বাগত জানিয়েছেন। অর্থাৎ তাদের জন্য দরজা খোলা। এবারের বিশ্বকাপের আলোচিত খেলোয়াড় ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার বাবা উইলফ্রাইড ক্যামেরুন থেকে ফ্রান্সে আসেন। বাবা ফুটবল কোচ। বিয়ে করেন আলজেরিয়ার মেয়ে ফাইজা লামারিকে। তিনি একজন হ্যান্ডবল খেলোয়াড় ছিলেন। বাবা খ্রিষ্টান কিন্তু মা ফাইজা মুসলিম।
ওদিকে বাবার সঙ্গে ফাহিম মোহাম্মদ নামে একটি ছেলে এসেছিল বাংলাদেশ থেকে। তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা বাতিল হয়ে যায়। পরে ফাহিম মোহাম্মদ দাবায় একটি ক্লাবে চ্যাম্পিয়ন হলে তাদের রেসিডেন্ট পারমিট দেয়া হয়। ১৪ই জুলাই ফ্রান্সের স্বাধীনতা দিবস। আর তাই শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই সারারাত আতশবাজি এবং পার্টিতে নেচে গেয়ে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করে ফরাসিরা। একইসঙ্গে বিশ্বকাপ ফাইনাল সামনে রেখে তারা এখন ফুরফুরে মেজাজে। জুলাই’র প্রথম সপ্তাহ থেকে ফ্রান্সের স্কুল-কলেজে দুই মাসের গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়েছে। তাই তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ছুটির আমেজের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের পাশাপাশি অন্যরকম উৎসব। সুপার মার্কেট বা স্পোর্টস শপে ফ্রান্সের জার্সি শেষ হয়ে গেছে। দু’একটি মার্কেটে তা পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। ৪০ ইউরোর (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০০০ টাকা) নিচে ফ্রান্সের জার্সি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ব্রাজিল, জার্মানি বা আর্জেন্টিনার জার্সি মার্কেটে এখনো ঝুলতে দেখা গেলেও তা আর কেউ কিনছেন না। ওদিকে, প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের সামনেসহ বড় বড় শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভিড় জমাবেন ফুটবল ভক্তরা। চলছে জয়ের আগেই জয় সেলিব্রেটের জন্য জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি আর শেষ মুহূর্তে পতাকা, স্টিকার ও বাজি কেনার প্রস্তুতি।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কেউ বলতে পারবে না কারো গলা টিপে ধরেছি, বাধা দিয়েছি

মেজর মান্নান স্বাধীনতাবিরোধী - মহিউদ্দিন আহমদ

কেন আমাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না?

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের প্রাথমিক তদন্ত শুরু আইসিসি’র

ভারতের বড় জয়

নওয়াজ মুক্ত, সাজা স্থগিত

সামনে আফগানিস্তান, সূচি নিয়ে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

ঘণ্টায় দুজন ডেঙ্গু রোগী

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক গ্রেপ্তার

ড. কামালের সঙ্গে জোনায়েদ সাকির বৈঠক

খালেদার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি আসছে

মানবসেবার ব্রতই লোটে শেরিংকে তুলেছে এ পর্যায়ে

৫ দিনের রিমান্ডে হাবিব-উন নবী সোহেল

দেশে-বিদেশে শহিদুল আলমের মুক্তি দাবি

শুল্ক বাধা দূর হলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বাণিজ্য দ্বিগুণ করা সম্ভব-বিশ্বব্যাংক

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়া