আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ জুন ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৬
স্বাধীনতা, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ৭০ বছরে পা রাখছে আজ। ১৯৪৯ সালের এদিনে পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী এ দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে   
 এসেছে। ঐতিহ্যবাহী এ দলের হাত ধরে স্বাধীন বাংলাদেশের অনেক অর্জন আর অগ্রগতির ইতিহাস রচিত হয়েছে। সর্বশেষ টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় পৌনে এক শতকের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক পথচলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ দলটির গণতান্ত্রিক চরিত্র ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখা। প্রতিষ্ঠার ৬৯তম বার্ষিকীটি এবার স্মরণীয় করে রাখতে বর্ণিল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
৭০তম বছরে পা দেয়া আওয়ামী লীগের সামনে কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার হাতছানির পাশাপাশি একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সামনে। এমন অবস্থায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনেই দলের নেতাদের বিশেষ নির্বাচনী বার্তা দেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সকালে গণভবনে বিশেষ বর্ধিত সভায় তিনি সারা দেশের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নির্দেশনা দেবেন। কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনসহ সারা দেশের প্রায় চার হাজার নেতা এ বিশেষ বর্ধিত সভায় অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনেই উদ্বোধন হচ্ছে সুরম্য ভবনে নিজস্ব কার্যালয়। ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে নির্মিত ১০তলা বিশিষ্ট দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।  
দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টায় ধানমণ্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, সকাল ১০টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সংগঠনের নবনির্মিত কার্যালয় ভবন উদ্বোধন।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শামসুল হকের নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। জন্মলগ্নে এই দলের নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। জন্মলগ্ন থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, শোষণমুক্ত সাম্যের সমাজ নির্মাণের আদর্শ এবং একটি উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক, প্রগতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দর্শনের ভিত্তি রচনা করে আওয়ামী লীগ। যার প্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করা হয়। ১৯৪৮ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সূচিত ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে গণজাগরণে পরিণত হয়। অব্যাহত রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সেই সময়ে কারান্তরালে থেকেও ভাষা আন্দোলনে পালন করেন প্রেরণাদাতার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। ভাষা আন্দোলনের বিজয়ের পটভূমিতে ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই মাতৃভাষা বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করে। এরপর আইয়ুবের এক দশকের স্বৈরশাসন-বিরোধী আন্দোলন, ’৬২ ও ’৬৪-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলন, ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৬-দফাভিত্তিক আন্দোলনের পর আসে ’৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়। মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সূচনা হয় স্বাধীনতা সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ খ্যাত কালজয়ী ভাষণের মধ্য দিয়ে মূলত মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। ২৬শে মার্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে দীর্ঘ ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। স্বাধীনতা পরবর্তী সরকার গঠনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ঘাতকেরা নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
১৯৮১ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ই মে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। দীর্ঘ ২১ বছর লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে হার ও এক এগারোর সরকারের সময়ে কারান্তরীণ হন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তবে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। পরবর্তী ২০১৪ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট। যদিও এ নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে বহুল বিতর্ক রয়েছে। এ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
এদিকে, ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেয়া দলীয় কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের সকল স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম

চবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানবন্ধনেও ছাত্রলীগের হামলা!

রিমান্ডে আসাদ পংপং

ছোট বড় সকল নির্বাচনে স্বচ্ছতা দেখতে চায় ইইউ

ঢাকায় সর্বোচ্চ গরম

দেশের বাইরে পাসের হার ৯২ দশমিক ২৮ শতাংশ

জাবিতে ১৯ বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন

আবারও বড় ঋণ কেলেঙ্কারিতে জনতা ব্যাংক

বিবি’র ওপর ‘আস্থা’ রাখুন!

হুমায়ূন আহমেদের শেষের দিনগুলো

দিনাজপুরে ছেলেরা পিছিয়ে

আরিফকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন সেলিম

যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বললেন বিপর্যয় নয়, কম পাস

ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ২০ থেকে ২৬ জুলাই

গতানুগতিক পড়ালেখায় ভাল ফল সম্ভব নয়

পাকিস্তানের নির্বাচনে দৃষ্টি সেনাবাহিনীর!