গাজীপুর সিটি নির্বাচন হাসান-জাহাঙ্গীর পাল্টাপাল্টি

শেষের পাতা

ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে | ২৩ জুন ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:০০
গাজীপুর সিটি নির্বাচনের বাকি আর মাত্র তিন দিন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মন জয় করতে গতকাল ছুটির দিনেও বিভিন্ন ওয়ার্ডের অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন বড় দুই দলের মেয়র প্রার্থী। নানা প্রতিশ্রুতিতে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন তারা। প্রার্থীদের ব্যস্ততা আর দৌড়ঝাঁপ দেখলেই বোঝা যায় গাজীপুর সিটি নির্বাচন এখন দোড়গোড়ায়। প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতার বাকি আর মাত্র দু’দিন। এ সময়ে এসে গাজীপুর সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।
সকালে নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে অংশ নিয়ে বিএনপির বিশেষ ব্যক্তিদের নজরদারিতে আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এদিকে, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনে কোনো অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না।
গতকাল সকালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নিজ বাসায় কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে নির্বাচনী পরামর্শ করে প্রচারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। জাহাঙ্গীর সকালে খুলনার নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে নগরের ১৩নং ওয়ার্ডের ইটাহাটা, কলাবাগান এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন। এ সময় খুলনার নবনির্বাচিত মেয়র তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। তিনি ও নগরের উন্নয়নে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে বক্তব্য রাখেন পথসভায়। পরে তিনি ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মজলিশপুর ও খলাপাড়া, পোড়াবাড়ি কলোনিপাড়া এলাকায় পথসভা ও প্রচার কাজ চালান। তার পথসভায় বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন পথসভায় ও সাংবাদিকেদের প্রশ্নের জবাবে এ সময় জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। বিএনপির প্রার্থী খুনি পরিবারের সদস্য। আদালতে তার ভাইয়ের সাজা হয়েছে। তাদের এখন টার্গেট ভোট নয়, তাদের টার্গেট সরকারকে কিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, কিভাবে বিতর্কে ফেলা য়ায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। তিনি বলেন, তাদের যেসব বক্তৃতা ও কথাবার্তা তাতে মনে হচ্ছে, যেহেতু জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করছে, সেহেতু তারা যেকোনো সময় নাশকতার সৃষ্টি করে তারা খবরের শিরোনাম হতে চাইছে। আমি অনুরোধ করছি, আসুন গণতন্ত্রের সঙ্গে আমাদের প্রত্যেক ভোটারকে আমরা সম্মান দেখাই। এ সময় তিনি বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নানা সমালোচনা করে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সবার কাছে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী জনসভায় এসে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে মিথ্যাচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বর্তমান সরকারের যে ধারাবাহিক উন্নয়ন তা বাধাগ্রস্ত করতেই তারা পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। তাই সেসব কথায় কান না দিয়ে বর্তমান সরকারের সুন্দর দেশ গড়ার যে গতি তা আরো গতিশীল করতে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি। জাহাঙ্গীর আলম জুমার নামাজ আদায় করেন চান্দনা কেন্দ্রীয় মসজিদে। নামাজ শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নগরের ১৮০০ মসজিদের ইমাম-খতিব ও ৪৫০ কওমি মাদরাসার প্রধানরা তার জন্যে নির্বাচনে কাজ করছে। খুলনা নগরের মানুষ দেখছে গত পাঁচ বছর বিএনপির মেয়র তাদের নগরের জন্যে কোনো কাজ করতে পারেনি। এ জন্যে গত ১৫ই মে তারা আওয়ামী লীগকে, নৌকাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। তেমনি উন্নয়নের স্বার্থে আগামী ২৬শে মে গাজীপুরবাসী আমাকে,  নৌকাকে বিজয়ী করবে।
অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে নগরের মোগরখাল যোগিতলা থেকে দিনের প্রচারণা শুরু করেন। নির্বাচনের মাঠ সবার জন্য সমান নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে, গাজীপুর নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হলে তা মেনে নেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন হাসান সরকার। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, আপনারা মেহেরবানি করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। আর যদি সেখানে চক্রান্ত করা হয়, মনে রাখবেন- জীবনের শেষ সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি, শেষ খেলাটা আপনাদের সঙ্গে খেলেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেব।
গাজীপুর সিটি নির্বাচন এই নির্বাচন শুধুমাত্র চেয়ারে বসার জন্য নয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে এ সরকার যে অমানবিক আচরণ করছে তার প্রতিবাদ করতেও নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অবশ্য সব বাধা বিপত্তি পার হয়ে ২৬শে জুন ভোটের দিন শেষ পর্যন্ত ভোটারদের নির্বাচনী মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে গণসংযোগে ছিলেন- জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ডা. মাজহারুল আলম, জেলা সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব উদ্দীন প্রমুখ।
খন্দকার মোশাররফ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, যে সূক্ষ্মভাবে আপনারা ভোট ডাকাতি করেছেন তা সারা বিশ্ব জানে। ভোট ডাকাতি লুকাতে পারেননি। এবার গাজীপুরে আপনারা যদি সেই চেষ্টা করেন, গাজীপুরের জনগণ হতে দেবে না। গতকাল সকালে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে প্রচারণায় নেমে চান্দনা এলাকার এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই নির্বাচনকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির নির্বাচন, এবারের নির্বাচন এ দেশের সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এর আগে সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের টঙ্গীর বাসভবনে অয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার নতুন কৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে গাজীপুরের কোনাবাড়ি, সালনাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ৮/৯ জন নেতাকর্মীকে আটক করে পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে পেন্ডিং মালায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। যাতে আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায়। এসব কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। সরকার যদি এই কৌশল থেকে ফিরে না আসে, আর যদি নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রার্থীর কর্মীদের মুক্তি না দেয়া হয়, তাহলে অন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বচনে আমরা অংশগ্রহণ করব কি না সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ সময় গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোটারদের আগ্রহ মিনার প্রতীকে- ফজলুর রহমান: নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোট মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব হেফাজতের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান সকাল থেকে নিজ নির্বাচনী প্রধান কার্যালয় বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকালে থেকে চান্দনা চৌরাস্তা, বাইপাস মোড় ও মোগরখাল এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করেন ও পথসভা করেন। এ সময় তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচার পত্র বিলি করেন এবং মেয়র পদে মিনার প্রতীকে ভোট ও সমর্থন কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, গাজীপুরের ভোটাররা মিনার প্রতীকে ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। বিজয় আমাদের আসবেই ইনশাল্লাাহ। এ সময় তার সঙ্গে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর জেলা ইসলামী ঐক্যজোট যুগ্ম-মহাসচিব মাওলা মুখলেছুর রহমান, অর্থসচিব মাওলানা আব্দুল খালেক, ইসলামী ছাত্র খেলাফত জেলার সেক্রেটারি জেনারেল জসিম উদ্দিন, মহানগর আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মারুফ, সদস্য সচিব রিদওয়ানুল হক, ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মুফতি ফারুক আহমদ কাসেমী, মাওলানা ঈসমাইল হোসাইন, মাওলানা আমির হোসাইন মাওলানা মন্‌জুরুল ইসলাম, মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারণা জমে উঠলেও এই নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের সম্পৃক্ততা আগের নির্বাচনের চেয়ে কম বলেই মনে করছেন অনেকে। নির্বাচন নিয়ে দলীয় রাজনীতিতে যারা যুক্ত নন, কিংবা কোনো প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেই, তেমন সাধারণ জনগণের আগ্রহও কম দেখা যাচ্ছে ভোট নিয়ে। মাঠে আছে মূলত প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম

চবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানবন্ধনেও ছাত্রলীগের হামলা!

রিমান্ডে আসাদ পংপং

ছোট বড় সকল নির্বাচনে স্বচ্ছতা দেখতে চায় ইইউ

ঢাকায় সর্বোচ্চ গরম

দেশের বাইরে পাসের হার ৯২ দশমিক ২৮ শতাংশ

জাবিতে ১৯ বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন

আবারও বড় ঋণ কেলেঙ্কারিতে জনতা ব্যাংক

বিবি’র ওপর ‘আস্থা’ রাখুন!

হুমায়ূন আহমেদের শেষের দিনগুলো

দিনাজপুরে ছেলেরা পিছিয়ে

আরিফকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন সেলিম

যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বললেন বিপর্যয় নয়, কম পাস

ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ২০ থেকে ২৬ জুলাই

গতানুগতিক পড়ালেখায় ভাল ফল সম্ভব নয়

পাকিস্তানের নির্বাচনে দৃষ্টি সেনাবাহিনীর!