গো-খাদ্যের সংকট

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

শেষের পাতা

ইমাদ উদ দীন, মৌলভীবাজার থেকে | ২২ জুন ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৫
বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে। আর নতুন করে বন্যা দেখা দিচ্ছে হাওর অঞ্চলে। জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলায় এখন কমবেশি বন্যায় আক্রান্ত। মানুষের মতো দুর্ভোগে পড়েছে গৃহপালিত পশুগুলোও । মানুষের বসতভিটা যেমন পানিতে নিমজ্জিত। তেমনি গবাদি পশুগুলোর বেহালদশা।
বানের পানিতে ক্ষেতের ফসল ও রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়াতে এখন গো-খাদ্য সংকটে পড়েছেন জেলার নদী ও হাওর পাড়ের কৃষিজীবী মানুষ। গেল ক’দিন থেকে এ সংকট তীব্র হচ্ছে। অনেক এলাকায় বানের পানিতে নিমজ্জিত থাকা ঘাস ও ক্ষেতের জমি ভেসে উঠলেও সেখান থেকে গবাদিপশুগুলোর খাদ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। কারণ ওই ঘাস প্রায় সপ্তাহখানেক পানিতে তলিয়ে থাকায় তা যেমন বিবর্ণ তেমনি দুর্গন্ধযুক্তও। এ জেলার নদী ও হাওর তীরের কৃষকরা গৃহপালিত পশু নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। আকস্মিক বন্যায় সহায় সম্বল হারিয়ে যেমন তাদের নিজেদের খাদ্য নেই তেমনি উপোস থাকছে তাদের গরু, মহিষ ও ছাগল। আর হাঁস-মুরগিও। গেল বছরের মতো এবছরও হঠাৎ উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারি বর্ষণে তলিয়ে যায় জেলার মনু, ধলাইসহ সবক’টি নদী ও হাওর। এরই সঙ্গে জলাবদ্ধতার কারণে দূষিত হয়ে পড়েছে গো-খাদ্য ঘাস, শুকনো খড় ও কুড়া। তাই এখন গো- খাদ্য নিয়ে শুধুই হাহাকার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় গেল ক’দিন থেকে গো-খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আকস্মিক বন্যায় নিঃস্ব নদী ও হাওর তীরের বন্যাকবলিতদের চলছে নানা দুর্ভোগ। ঘরে নিজেদের খাবার নেই। তারপর আউশ ও সবজি ক্ষেতের জন্য মহাজন ও এনজিও সংস্থার কাছ থেকে ঋণ আনায় পাওনাদারদের তাগিদ আসছে বার বার। ক্ষেতের কৃষি ফসল ও মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আয়-রোজগারও নেই। তাই অভাবের তাড়নায় নিজেদের সংসার চালাতে অনেকটা বাধ্য হয়ে এখন লোকসান দিয়েই বিক্রি করছেন তাদের গরু, মহিষ ও ছাগল। নদী ও হাওর তীরের কৃষিজীবী মানুষের শেষ সম্বল গৃহপালিত এই পশুগুলো বিক্রি করে আগামীতে ক্ষেতের জমি চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আহাজারি করছেন চাষীরা। জেলার মনু ও ধলায় নদী আর হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওর পাড়ের কৃষকরা আউশ ও বোরো ধানের ওপর যেমন নির্ভরশীল। তেমনি তাদের পালিত গরু-মহিষের পুরো বছরের খাবারের ব্যবস্থা হয় ওই ধানের তুষ (কুড়া, ভুসি) আর খড় থেকে। তুষ (কুড়া, ভুসি) থেকে খাদ্য হয় মোরগ ও হাঁসেরও। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় তাদের সবই বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। হঠাৎ আসা প্লাবনের পানি তাদের সব সঞ্চয় গিলে খেয়েছে। মানুষের খাদ্যের মতো গ্রাস করেছে গো-খাদ্যও। তাই নদী ও হাওর পাড়ের কৃষক পরিবারগুলো নিজেদের খাদ্যের পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও দুর্ভোগে পড়েছেন। ধলাই নদীর তীরবর্তী কমলগঞ্জের মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সবুর মিয়া, করিম মিয়া, সাহেদ মিয়া, জমির আলীসহ অনেকেই জানান তাদের জমিতে আউশ ধান ও সবজি ফলিয়ে ছিলেন। জমির সব ধান ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে দিয়েছে উজান থেকে আসা ঢলের পানি। এখন তাদের ঘরে শুকনো ধান নেই, খড়ও নেই। বাসুদেবপুরের ঈমান উল্লাহ বলেন, তার ৬টি গরু নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন। না খাওয়া উপোস গরুগুলো গোয়ালে খাবার জন্য হাঁকডাক দিচ্ছে। কিন্তু না আছে ঘাস আর না আছে খড় কিংবা কুঁড়া। একই ইউনিয়নের হারুন মিয়া বলেন, ঘরবাড়ি আর সবজি ক্ষেতের সঙ্গে হাঁস, মোরগ আর মাছও হারিয়েছি। এখন দেখছি গোয়ালঘরেও পানি থাকা আর খাদ্য সংকটে গরুগুলোও মারা যাবে। তাই তা বিক্রি করা ছাড়া এখন অন্য কোনো উপায় দেখছি না। হাকালুকি হাওর পাড়ের সাদিপুর গ্রামের কৃষক সালাম, আকুল ও বটলাই মিয়া জানান, চারদিকে পানি থাকায় তাদের গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। থাকার জায়গা আর খাদ্য সংকটের কারণে তা বিক্রি করতে চাচ্ছেন। মনু নদী তীরবর্তী শরীপুর ইউনিয়নের সঞ্জবপুর, তিলকপুর, পালকিছড়া, দত্তগ্রাম, মনোহরপুর সহ বেশক’টি গ্রামের কৃষকরা জানান, আমাদেরও খাদ্য নেই। এরই সঙ্গে গরুগুলোরও খাদ্য নেই। তাই অনেকেই তাদের গরু বিক্রি করছেন। অথবা অন্য এলাকায় তাদের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে পাঠাচ্ছেন আপদকালীন সময়ের জন্য। জেলার মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যার পানি কিছু কমলেও কাউয়াদিঘি ও হাকালুকি হাওরেও এখন থইথই পানি। সময় যত যাচ্ছে ততই হাওরে বাড়ছে পানি। কাউয়াদিঘি হাওর পাড়ের ফতেহপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষ্ণ মালাকার, গোপেশ মালাকার, রফিক মিয়া ও আশব আলী জানান, গেল বছরের মতো হাওরে পানি বেড়েই চলেছে। তাই গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। ধলাই নদী তীরবর্তী কমলগঞ্জের বাদে করিমপুর গ্রামের আবাস মিয়া ও মায়া বেগম বলেন, বাড়ির আশেপাশে গরু-মহিষ রাখার মতো কোনো জায়গা নেই। তাই গেল সপ্তাহ দিন থেকে বাড়িতে গরু, ছাগল ও মহিষগুলো এক ঘরে বন্দি অবস্থায়। ঘাস নাই, খড় নাই। তাদের ক্ষুধার জ্বালার হাঁকডাক ভালো লাগে না। অন্য কোথাও থেকে যে খড় কিনবো সেই টাকা পয়সাও এখন হাতে নাই। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন- নিজে খাইতে পারছি না আর গো-খাদ্য কিনবো কীভাবে? ওদের আর না খাইয়ে রাখতে চাই না। চোখের সামনে পোষা প্রাণীগুলোর এমন কষ্ট সহ্য হয় না। তাই বিক্রি করে দেব। অন্য গৃহস্থের ঘরে গিয়ে যাতে তারা শান্তিতে থাকে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা ও উপজেলা বিভাগের কর্মকর্তারা বন্যাকবলিত এলাকার গরু, মহিষ ও ছাগল পালনকারীদের তাদের গবাদিপশুগুলো পানিবাহিত নানা রোগ-বালাই থেকে রক্ষায় পরামর্শ দিচ্ছেন। এবং কীভাবে এই আপদকালীন সময়ে গো-খাদ্য সংগ্রহ করবেন ও খাওয়াবেন সে দিকনির্দেশনাও তারা দিচ্ছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম

চবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানবন্ধনেও ছাত্রলীগের হামলা!

রিমান্ডে আসাদ পংপং

ছোট বড় সকল নির্বাচনে স্বচ্ছতা দেখতে চায় ইইউ

ঢাকায় সর্বোচ্চ গরম

দেশের বাইরে পাসের হার ৯২ দশমিক ২৮ শতাংশ

জাবিতে ১৯ বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন

আবারও বড় ঋণ কেলেঙ্কারিতে জনতা ব্যাংক

বিবি’র ওপর ‘আস্থা’ রাখুন!

হুমায়ূন আহমেদের শেষের দিনগুলো

দিনাজপুরে ছেলেরা পিছিয়ে

আরিফকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন সেলিম

যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বললেন বিপর্যয় নয়, কম পাস

ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ২০ থেকে ২৬ জুলাই

গতানুগতিক পড়ালেখায় ভাল ফল সম্ভব নয়

পাকিস্তানের নির্বাচনে দৃষ্টি সেনাবাহিনীর!