খুলনায় শরিকদের নিয়ে মাঠে বড় দুই দল

প্রথম পাতা

রাশিদুল ইসলাম, খুলনা থেকে | ২৩ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৪৮
খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে দ্বৈত জবাবদিহিতার মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী। একদিকে ভোটারদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ, অপরদিকে ভোটে জয়-পরাজয়ে রয়েছে দলের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির উত্থান-পতন। বিশ্লেষকরা  মনে করছেন, দ্বৈত এই জবাবদিহিতার কারণে নতুন করেই ভোটের হিসাব-নিকাশ করতে হবে দুই দলকে। আর এ কারণে খুলনায় জমজমাট নির্বাচনের মাঝেই ছড়াচ্ছে বাড়তি রাজনৈতিক উত্তাপ।
আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে শুরুতেই নিজেদের প্রার্থিতা পরিবর্তন করেছে বিএনপি। ভোটারদের প্রতিশ্রুতি পূরণের স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন পরিণত হয়েছে দু’দলের রাজনৈতিক মর্যাদার লড়াইয়ে। বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’র খুলনা জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, ‘দলীয় বিবেচনায় নির্বাচন হলে আমাদের রাজনৈতিক কালচার হচ্ছে তখন আমরা দলের বাইরে যেতে পারি না।
নির্বাচনে বিজয়ী হলে তখন তিনি ওই অঞ্চল, ওই উপজেলা ও ওই সিটি করপোরেশনের মানুষদের জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু পরবর্তীতে সেটাকে আমরা ধারণ করতে পারি না।’
এদিকে দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে বাড়তি জবাবদিহিতার কথা স্বীকার করে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘এত যেনতেন ভোট নয়। এখানে ভোটারদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি যেমন থাকবে, তেমনি সরকার হচ্ছে এই নির্বাচনে প্রতিপক্ষ। আমাদের বিএনপির বর্তমান মেয়র অবশ্যই সৎ ও যোগ্য মানুষ। কিন্তু সরকারকে পরাজিত করার এই টাফ ফাইটে খুলনা বিভাগের নেতারা আমাকে সুপারিশ করেছেন। আমি হচ্ছি এই নির্বাচনের পরিচালক ও আমার দলের কর্মীরা হচ্ছে এই নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী।’
তবে, প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, খুলনার উন্নয়নে যোগ্য প্রার্থীকেই নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘মঞ্জু সাহেব আর মনি সাহেব একই পার্টির প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি। একজন মেয়র ছিলেন, আরেকজন ছিলেন সংসদ সদস্য। এক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই। আমি কাউকেই খাটো করে দেখি না। ভোটে তাদের একটা হিসাব-নিকাশ আছে, আমারও হিসাব-নিকাশ আছে। জনগণের উন্নয়ন যিনি করতে পারবেন, ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবেন-জনগণ তাকেই নির্বাচিত করবে।’
রাজনীতিবিদদের মতে, অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই মেয়র প্রার্থী হয়েছেন তালুকদার আব্দুল খালেক। এর মধ্যে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এই নির্বাচনে জয়-পরাজয় তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলবে। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় বিবেচনায় মেয়র নির্বাচিত হলে জনগণের উন্নয়ন ও দাবি আদায়ের জায়গাটা সুদৃঢ় হয়। তবে, খুলনায় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও বরাবরের মতো নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের দাবিকেই বড় করে দেখছেন নাগরিক নেতারা।
শরিকদের নিয়ে মাঠে নেমেছে বড় দুই দল: খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শরিকদের নিয়ে মাঠে নেমেছে বড় দুই দল। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ১৪ দলের নেতারা। অপরদিকে বিএনপির সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হলেও প্রকাশ্যে মাঠে নামেনি জামায়াত। ‘তাদের ৬০ হাজারের বেশি রিজার্ভ ভোট যা সিটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে’ দাবি করে তারা বিএনপির সঙ্গে দেনদরবারও শুরু করেছে। দলটির নেতারা জানান, রাজনৈতিক কারণেই নির্বাচনে এবার কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে জামায়াত।
জানা যায়, খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রীয় ১৪ দল সমর্থন ঘোষণার পরদিনই শনিবার খুলনায় বৈঠকে বসেন স্থানীয় নেতারা। এর আগে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আরেক দফা বৈঠক হয় ১৪ দল নেতাদের। এ সব বৈঠকে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠন করা হয়েছে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি।
খুলনা মহাগর ও জেলা ১৪ দলের সদস্য সচিব ও জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খালিদ হোসেন জানান, ‘আমরা ইতিমধ্যে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসে একসঙ্গে বৈঠক করেছি। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়, ওয়ার্ডে ১৪ দল একত্রিত হয়ে নির্বাচন পরিচলনা করবে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি স্ট্যান্ডিং কমিটি থাকবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিটি নির্বাচনে আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাব।’
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘এই কিছুদিন থেকেই আমরা লক্ষ্য করেছি আমাদের নেতাকর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য অপচেষ্টা চলছে। নির্বাচনের এই সময় আমাদের দলের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে অপপ্রচার জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াবে। সামনে জাতীয় নির্বাচন, এই সময়ে এ ধরনের বিভ্রান্তি সবার জন্যই ক্ষতিকর। তবে, অনেক কিছুই শোনা যায়, বলা যায়। আমার মনে হয়, আমাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত আছে। আমার মন যদি সঠিক থাকে, অবশ্যই এই নির্বাচনে ষড়যন্ত্র অপপ্রচার প্রভাব ফেলতে পারবে না।’
অপরদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির শরিক ২০ দলীয় জোট বৈঠক করেছে। ঘরোয়া বৈঠকে বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২০ দলের নেতারা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, এখানে শরিকরা তাদের সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী থাকবে। জামায়াতের সঙ্গে পুলিশ কিভাবে আচরণ করবে, সেই অনুযায়ী তাদের আলাদা কৌশল থাকতে পারে। তবে এতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।
বিএনপির শরিক দল জামায়াতের মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম বলেন, ১৯৯৪ সালে আলাদাভাবে সিটি নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রায় ২৮ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। মাঝে ২৪ বছর পার হয়েছে। এই সময়ে তাদের ৬০ থেকে ৭০ হাজার ভোট বেড়েছে। যা সিটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপিকে সহযোগিতা দেয়ার কথা বলেছি। পাশাপাশি সিটি নির্বাচনে পাঁচটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জামায়াতের প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার জন্য বলেছি। তারা আমাদের সমর্থন দিলে আমরাও জামায়াতের ভোট ব্যাংক নিয়ে তাদের সহযোগিতা করবো।’ তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীদের নামে মামলা থাকায় জামায়াতের অনেকে প্রকাশ্যে প্রচারণায় থাকছে না। তবে, অনেকে জামিনে রয়েছেন, যারা সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেবেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে জামায়াত।’
নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ও হয়রানির অভিযোগ: দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ কর্তৃক তল্লাশি ও হয়রানি করাসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী বিএনপি নেতা এসএম আব্দুর রহমান। শনিবার দুপুরে এ অভিযোগ কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার বরাবর জমা দেয়া হয়েছে। তাতে এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আইনি বাস্তবায়ন দাবি করা হয়েছে।
কাউন্সিলর প্রার্থী এসএম আব্দুর রহমান অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার দিনগত রাতে পুলিশ তার ওয়ার্ড এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযানের নামে তল্লাশি চালায়। এ সময় বিএনপি নেতা আসলামের বাড়িতে ভাঙচুরও করা হয়। নেতাকর্মীদের বাড়িতে না পেয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে। পুলিশের এ ধরনের ভূমিকা বিএনপি প্রাথীর নির্বাচনী প্রচারণাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
কেসিসি নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুস আলী বলেন, ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এসএম আব্দুর রহমানের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বাজপেয়ী প্রয়াত

কোটা আন্দোলনের নেত্রী লুমা রিমান্ডে

তাদের উদ্দেশ্য কি?

ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি

সাইবার হামলার আশঙ্কায় সব ব্যাংকে সতর্কতা জারি

ঢাকার নিন্দা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব

বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা ও প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন

আমীর খসরুকে দুদকে তলব

রোহিঙ্গা প্রশ্নে চীন ও রাশিয়ার অবস্থান পাল্টায়নি এখনো

মহাসড়কে যানজট ঈদযাত্রার আগেই ভোগান্তি

যুবলীগ নেতার গ্রেপ্তার দাবিতে সড়কে এমপি

স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে ঈদ করা হলো না প্রবাসী নাছিরের

অতিরিক্ত গচ্চা ১১১ কোটি টাকা

পেট্রোবাংলার ৭ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন আজ

লুমা রিমান্ডে, ১২ ছাত্রের জামিন নামঞ্জুর