বগুড়ায় পরকীয়ার বলি স্কুল শিক্ষক

বাংলারজমিন

বগুড়া প্রতিনিধি | ২১ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার
আবদুর রশিদ (৫৭)। একজন স্কুল শিক্ষক। বয়স বাড়লেও পরকীয়ার নেশায় আটকে যান তিনি। নিজ গ্রামের আফরোজা বেগমের সঙ্গে নৈশকালীন সম্পর্ক দীর্ঘদিন থেকে। বিষয়টি মোটামুটি গ্রামের সবার কানেই পৌঁছেছে অনেক আগেই। একবার গ্রাম্য সালিশে ওই শিক্ষকের আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছিলো।
লোকলজ্জা রশিদ আফরোজাকে থামাতে পারেনি। নিজ নিজ সংসার থাকা সত্ত্বেও অবৈধ যৌন সম্পর্ক তাদেরকে নেশায় ফেলে দেয়। কোন কিছুতেই থামানো যায়নি তাদের এই অবৈধ যৌর্ন সম্পর্ক। পরকীয়ার শেষ পরিণতি মৃত্যুতেই ঠেকলো। শুক্রবার ভোরে বাড়ির পাশে বিবস্ত্র রশিদের লাশ পাওয়া যায়। তার গোপনাঙ্গ কেটেই মৃত্যু নিশ্চিৎ করেছে হত্যাকারীরা। এছাড়াও মুখেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর ইউনিয়নের ডুমুরীগ্রাম মধ্যপাড়ায়। ওই ঘটনায় প্রেমিকা আফরোজা এবং তার স্বামী আবদুর রাজ্জাককে আটক করা হয়েছে। সংবাদটি লেখা পর্যন্ত (শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টা) থানায় মামলা হয়নি। ওই শিক্ষক ডুমুরীগ্রাম মধ্যপাড়ার মৃত আহমদ আলীর ছেলে ।
স্থানীয়রা জানায়, আবদুর রশিদ উপজেলার নসরতপুর ইউনিয়নের ডুমুরীগ্রামের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা। তিনি ডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রশিদ। ওই শিক্ষক এলাকার একটি পুকুরে মাছ চাষ করে আসছিল। তার পুকুরে চাষ করা মাছের খাদ্য দিতে প্রায়ই তার পুকুরে যেতেন। এর একপর্যায়ে পুকুর পারের বাসিন্দা কৃষক আবদুুর রাজ্জাকের স্ত্রী আফরোজা বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয়। আস্তে আস্তে তাদের মধ্যে গল্প হতো। একপর্যায়ে শুরু হয় পরকিয়া। দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলে তাদের মধ্যে। বছর খানেক আগে পাড়া-প্রতিবেশীরা অবৈধ যৌন কর্ম করার সময় তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ নিয়ে গ্রাম্য শালিসে ওই শিক্ষকের তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই ঘটনার পর কৃষক আবদুর রাজ্জাক তার স্ত্রী আফরোজাকে নিজ আয়ত্তে রাখতে পারলেও শিক্ষক রশিদ পরনারীর লোভ সামলাতে পারেনি। ওই ঘটনার কিছুদিন পর থেকে সে ফের আফরোজাকে তার খপ্পরে ফেলার চেষ্টা করে আসছে। ঘটনাটি আফরোজা বেগম তার স্বামীকে অবহিত করে। এর থেকে তারা পথের কাঁটা রশিদ মাস্টারকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে। নিহত রশিদের ভায়রা রেজাউল ইসলাম বলেন, রশিদ প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে পুকুরে মাছের খাবার দিতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। শুক্রবার ভোরে গ্রামবাসী ওই পুকুরের কিছু দূরে একটি ভিটায় রশিদ মাস্টারের লাশ দেখতে পায়। পরে লোকজন বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। লাশটি বর্তমানে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে আছে। আদমদীঘি থানার ওসি আবু সাঈদ মো. ওয়াহেদুজ্জামান জানান, লাশ উদ্ধারের পর প্রথমিক ধারণা করা হচ্ছে তাকে গোপনাঙ্গে ও মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ডুমুরিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগমকে পুলিশ আটক করেছে। ওসি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়ার জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মন্ত্রীদের বেতন ১০ ভাগ কমালেন মাহাথির

চার মাসে ১২১২ খুন

হৃদয়ভাঙা মৃত্যু

দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা

ওআইসিতে স্থায়ী পর্যবেক্ষক দেয়ার চিন্তা

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আরো ৮

রোডম্যাপের ধারেকাছেও নেই ইসি

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি তদন্ত কর্মকর্তাদের হাইকোর্টে তলব

রাজধানীতে দিনভর দুর্ভোগ

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ফের আজ

পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে বেকায়দায় এনসিটিবি

জবিতে কোটা আন্দোলনের নেতাকে ছাত্রলীগের মারধর

সিলেটে রাস্তা দখল করে ‘গাড়ি স্ট্যান্ড’: ভোগান্তি

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয়া হবে ৮ই জুলাই

‘মাদক সম্রাট সংসদেই আছে, তাদের ফাঁসি দিন’

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা