বানিয়াচংয়ে ধান ক্ষেতে মাছ চাষ

বাংলারজমিন

মখলিছ মিয়া, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) থেকে: | ২১ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার
রাসায়নিক সার ছাড়াই ধানের সঙ্গে মাছ চাষ করে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন কৃষক এহিয়া রেজা। চলতি মৌসুমে ৪ বিঘা জমিতে ধানের সঙ্গে মাছ চাষ করে সফল হয়েছেন। ই"ছাশক্তির কারণেই তিনি সফলতার মুখ দেখেছেন বলে তিনি জানান। আর এতে কৃষক এহিয়া রেজা প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বানিয়াচং সদরের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব আদম খানী গ্রামের বাসিন্দা এহিয়া রেজা। গতকাল সরেজমিন ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব আদম খানী গ্রামের বাসিন্দা এহিয়া রেজার ৯নং ব্লকের চাষকৃত জমিগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায়, সবুজের সমারোহ সোনালি ফসলে ভরপুর তার চাষকৃত ধানি জমি।
সঙ্গে দেখা গেছে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মাছের সমারোহ। কথা হয় উদ্যমী কৃষক এহিয়া রেজার সঙ্গে, কিভাবে কোনো প্রকার রাসায়নিক সার ব্যবহার ছাড়াই এত সুন্দর ফসল লাগানো সম্ভব হয়েছে। উত্তরে তিনি জানালেন, বেশ অনেক দিন ধরে তিনি মাছ চাষ করে আসছেন, কিভাবে মাছের সঙ্গে ধান চাষও করা যায় এবং কোনো প্রকার রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই জমিতে চাষাবাদ করা যায়, এজন্য তিনি প্রায়শই ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে থাকেন এক সময় তিনি সন্ধান পান আন্দালিব হাসান নামে জনৈক একজন ব্যবসায়ীর। তার সঙ্গে তিনি তার এ আগ্রহের কথা জানান, তখন তিনি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি সারের সঙ্গে তার আমদানিকৃত দক্ষিণ কৃরিয়ার হিতু ধাজোয়া এবং বিএস গ্রীন অ্যাকসিলেন্ট নামে দু’টি সার স্বল্প পরিসরে ব্যবহারের জন্য তাকে পরামর্শ দিলেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ৪ বিঘা জমিতে দু’জাতের হিতু ধাজোয়া ১০০ গ্রাম এবং বিএস গ্রীন অ্যাকসিলেন্ট ১০০ গ্রাম সার ব্যবহার করেছেন। যার বাজার মূল্য মাত্র ৭০০ টাকা। বর্তমানে তার চাষকৃত জমিতে দেখা গেছে পাশের অন্যান্য জমির তুলনায় ধানের ফলন বেশি হয়েছে। আশা করা হ"েছ তার জমিতে এ বছর বাম্পার ফলন হবে। অথচ অন্যান্য জমির কৃষক তার চেয়ে বহুগুণে অনেক টাকা খরচ করে রাসায়নিক সার ব্যবহার করেও জমিতে আশানুরূপ ফসল পা"েছন না। বরং, অধিকাংশ জমিগুলোর ধানের পাতা লালচে রং ধারণ করে ধানের চারাগুলো মরে যেতে দেখা যা"েছ। ধানের পাশাপাশি তিনি ৪ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেও সফল হয়েছেন। প্রতিদিনই তার এ প্রদর্শনিটি দেখতে অনেক মানুষ ভিড় জমা"েছ। এদিকে কৃষক এহিয়া রেজার রাসায়নিক সার ব্যতীত বোরো ধানের বাম্পার ফলন দেখে অনেক কৃষক আগামীতে তার ফর্মুলা অনুযায়ী চাষাবাদ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তার সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনিও কৃষকের সোনালি ফসল ফলাতে তার অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময় করে কৃষকদের সহেযাগিতা করার মনোবাসনা ব্যক্ত করেন। এ ব্যাপারে এ ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রবীর চন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাদের কৃষকগণ প্রায় জমিতেই অধিকহারে রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন যার ফলে প্রায় জমির ধানের পাতাই লালচে রং ধারণ করছে, রাসায়নিক সার অধিকহারে ব্যবহারের ফলে জমিতে আশানুরূফ ফলন হ"েছ না। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি সারগুলো সঠিকভাবে জমিতে প্রয়োগ করলে জমির উর্বরা শক্তি ব"দ্ধি পাবে এবং ফসলও ভালো হবে বলে তিনি জানান।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে জাগপাকেও পাশে চায় বিএনপি

ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

কক্ষপথে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট

মাদক নির্মূলে বন্দুকের ব্যবহারে উদ্বিগ্ন সুলতানা কামাল

বিদেশ পালাচ্ছে চট্টগ্রামের মাদক ব্যবসায়ীরা!

২রা জুন থেকে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু

দুদকের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

মন্ত্রী-সচিবরা ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা পাবেন, ব্যবহারে থাকছে না কোনো নির্ধারিত সীমা

কক্সবাজারে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, যাচ্ছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ের মাটিধসে নিহত ৩

রাজবধু মেগানের ভাতিজার হাতে ছুরি

নোম্যান্স ল্যান্ড ছাড়তে রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের নির্দেশ

ট্রাম্প শিবিরে সৌদি-আমিরাতের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা?

নির্বাচনকে সামনে রেখে হাসিনা-মোদি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হবে

রাজীবের পরিবারকে ক্ষতিপূরণে বাস কর্তৃপক্ষের করা লিভ টু আপিলের আদেশ কাল

চিকুনগুনিয়া সংকট: বর্ষার আগে ভরসা কতটা?