নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় দেড় বছর

শেষের পাতা

কাজী সোহাগ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৯
লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের ২৭শে আগস্ট। ফল প্রকাশ হয়েছে ওই বছরের ২৪শে সেপ্টেম্বর। মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় একই বছরের ২৩শে অক্টোবর থেকে ৫ই নভেম্বর পর্যন্ত। পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ২০১৭ সালের ২৯শে জুন। পরে পুলিশি তদন্ত হয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় গত বছরের ২৮শে নভেম্বর থেকে ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত। নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপ শেষ হওয়ার পর আজও নিয়োগপত্র পাননি ১২০ চাকরিপ্রার্থী। সময়ের হিসাবে এরইমধ্যে শেষ হয়েছে প্রায় ২ বছর। নিয়োগ নিয়ে নানা টানাহেঁচড়া আর চিঠি চালাচালিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ওইসব চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে।
এ ঘটনা রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয় জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (একাউন্টস) ও একাউন্ট্যান্ট পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট ওই পরীক্ষা নেয়। মৌখিক পরীক্ষা নেয় বিটিসিএল। প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, পরে পরিবর্তন আসে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে। নিয়োগ বাস্তবায়নে অনীহা দেখাতে থাকে নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। মৌখিক পরীক্ষার সাত মাস পরে ২০১৭ সালের আগস্টে পদ দুটিতে চূড়ান্ত ভাবে সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। বিটিসিএল জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলতি মাস থেকে ওই কমিটি কাজ শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে বিটিসিএলের পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রকাশনা) মীর মোহাম্মদ মোরশেদ গতকাল মানবজমিনকে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার তো অনেক প্রসেস থাকে। তাই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে কি-না তা দেখা হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে যদি কোনো ত্রুটি পায় তাহলে তো বাতিল করা যায় না। তাই আগে থেকে যাচাই করা হচ্ছে। বেশি সময় লাগার যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ঠিক নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে আসলে এ সময়টা ব্যয় হয়েছে। তিনি জানান, যাচাই কমিটি যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে এজন্য তাদের কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়নি। এদিকে পরীক্ষার পর ২ বছরেও চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা। তারা এখন ধরনা দিচ্ছেন নানা জায়গায়। চাকরি পেতে আবেদন করছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটিতে। পাশাপাশি নিয়মিত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করছেন। সরকারের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এখন যাচ্ছেন বিভিন্ন মিডিয়া হাউজে। এ প্রসঙ্গে চূড়ান্তভাবে সুপারিশকৃত নিয়োগপ্রার্থী ফেরদৌস ওয়াহিদ প্রিন্স মানবজমিনকে বলেন, জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার একাউন্টস পদে মোট ১২০ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত নিয়োগ প্রার্থীদের নিয়োগ না দিয়ে এখন নানা ধরনের টালবাহানা করছে। চাকরিতে নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষা করতে করতে ইতিমধ্যে অনেকের সরকারি চাকরির বয়সসীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাবা-মা এবং নিকট আত্মীয়স্বজনরাও এই পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কাগ্রস্ত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি অতি দ্রুত নিয়োগপত্র পাওয়ার ব্যবস্থা করে আমাদের এই চরম হতাশা থেকে মুক্তিদানের ব্যবস্থা করবেন তিনি। নিয়োগ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তায় পড়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীরা গত ২৯শে জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নিয়োগ বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেন। ওই কর্মসূচিতে তারা ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মানববন্ধন শেষে তারা মন্ত্রী বরাবর এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

তারা কেন এত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন?

সিনহার বই নিয়ে বাহাস

কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রথম দিককার চিঠি

নিউ ইয়র্কে দুটি অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র আশুরা আজ

তারুণ্যের ব্যর্থতায় লজ্জার হার

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে

মানবাধিকার ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে দুই সংস্থার উদ্বেগ

বাম জোটের কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত অর্ধশত

বিলে স্বাক্ষর না করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি সাংবাদিক নেতাদের আহ্বান

১০ কার্যদিবসের সংসদ অধিবেশনে ১৮টি বিল পাস

এখনো জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

জনগণের বিরুদ্ধে নয়, কল্যাণে আইন করতে হবে

ইতিহাস বদলাতে চায় বাংলাদেশ

গুজব শনাক্তকারী সেল কাজ করবে অক্টোবর থেকে

মেলবোর্নে সন্ত্রাসের অভিযোগ স্বীকার করলো বাংলাদেশের সোমা