কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর হার বেড়েছে

শেষের পাতা

দীন ইসলাম | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৪
কুয়েতের ডানা কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মো. আলম (৪৫)। দেশে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা ধার করে সচ্ছলতার আশায় দেশটিতে যান তিনি। সোনার হরিণের আশায় কুয়েতে গিয়েও তিনি আশানুরূপ সুবিধা করতে পারেননি। এজন্য গত পরশু মধ্যরাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে সহকর্মীরা হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান আলম। হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়া আলমের গ্রামের কুয়েত প্রবাসী এনামুল হক ভূঁইয়া মানবজমিনকে জানান, আলম সাত লাখ টাকা খরচ করে কুয়েত আসে। কিন্তু এক বছর হতে চললেও ধার শোধ করার কাছাকাছিও যেতে পারেননি আলম। প্রবাসী আলমের মতো এমন বাংলাদেশিদের মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে  কুয়েতে। হার্ট অ্যাটাক, দুর্ঘটনা ও জটিল রোগে বাংলাদেশিরা মারা যাচ্ছে বেশি।
তবে আত্মহত্যা করার মতো ঘটনা ঘটছে দেশটিতে। এ নিয়ে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস চিন্তিত হয়ে পড়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে মোটিভেশনাল কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে বিভিন্ন কারণে ২১৭ জন কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশি মারা যান। হার্ট অ্যাটাক ও জটিল রোগে মৃতের সংখ্যা বেশি হলেও কয়েকজন বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে ২১৬ জনের মরদেহ এরই মধ্যে দেশে এসেছে। তবে একজন নিহত পরিবারের সম্মতি নিয়ে কুয়েতে দাফন করা হয়েছে। কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের এ পর্যন্ত ২৩ জন প্রবাসী বাংলাদেশি মারা গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ বাংলাদেশি স্ট্রোকে মারা গেছেন। দুই জন আত্মহত্যা ও একজন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এদিকে কুয়েতে বাংলাদেশি অধ্যুষিত অঞ্চল হাসাবিয়ায় কালাম হোসেন (৬০) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি আল-জাহরা হাসপাতালে এবং আল আমিরী হাসপাতালে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতেন। তবে গত ছয় মাস ধরে তিনি বেকার ছিলেন। তার আকামায় (ভিসায়) সমস্যা ছিল, পরে ধার-দেনা করে আকামা লাগিয়েছেন। এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতেন কামাল হোসেন। গত জানুয়ারিতে স্ট্রোকে না ফেরার দেশে চলে যান কালাম। গত ১১ই জানুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিমান সদ্য বিদায়ী  ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় ৮৬১ জন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ বহন করেছে। এর মধ্যে আবুধাবি থেকে ২৭ জন, দোহা থেকে ৮ জন, দাম্মাম থেকে ৯৩ জন, দুবাই থেকে ৫৯ জন, কুয়ালালামপুর থেকে ৬২ জন, জেদ্দা থেকে ৩২ জন, মাস্কাট থেকে ১৭৩ জন ও রিয়াদ থেকে ৩১৬ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে এনেছে। কুয়েত থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৯১ জন প্রবাসী বাংলাদেশির লাশ পরিবহন করেছে। দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে মৃত প্রবাসী শ্রমিকদের মরদেহ বিনাখরচে বহন করেছে এয়ারলাইন্সটি। বিমান জানায়, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৬১ জন প্রবাসীর মরদেহ সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় দেশে নিয়ে আসে। যেখানে একেকটা মরদেহ বহন করতে অন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে লক্ষাধিক টাকা পরিশোধ করতে হয়।  ৮৬১ জন প্রবাসীর মরদেহ বহনে বিমান স্বজনদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেয়নি। এসব মরদেহ পরিবহন খাত থেকে বিমানের ৮ কোটি ৪০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হতো।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

তারা কেন এত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন?

সিনহার বই নিয়ে বাহাস

কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রথম দিককার চিঠি

নিউ ইয়র্কে দুটি অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র আশুরা আজ

তারুণ্যের ব্যর্থতায় লজ্জার হার

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে

মানবাধিকার ও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে দুই সংস্থার উদ্বেগ

বাম জোটের কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত অর্ধশত

বিলে স্বাক্ষর না করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি সাংবাদিক নেতাদের আহ্বান

১০ কার্যদিবসের সংসদ অধিবেশনে ১৮টি বিল পাস

এখনো জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

জনগণের বিরুদ্ধে নয়, কল্যাণে আইন করতে হবে

ইতিহাস বদলাতে চায় বাংলাদেশ

গুজব শনাক্তকারী সেল কাজ করবে অক্টোবর থেকে

মেলবোর্নে সন্ত্রাসের অভিযোগ স্বীকার করলো বাংলাদেশের সোমা