ঢাকায় মার্কিন নোবেলজয়ী মার্টিন শ্যালফি

তরুণদের উদ্যম-আগ্রহকে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিতে হবে

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৭
নতুন কিছু করা ও জানার জন্য অনুসন্ধানী মন থেকে প্রশ্ন করার কোনো বিকল্প নেই-মন্তব্য করে নোবেল বিজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী মার্টিন শ্যালফি বলেছেন, সৃজনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিজ্ঞান থেকে সব ক্ষেত্রেই সৃজনশীলতা প্রয়োজন। জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে অজনপ্রিয় বিষয়ে কাজ করাই ভালো। তরুণ প্রজন্মের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিতে প্রবীণদের পরামর্শ দেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্য বলেন, সব সময় বুড়োদের সব কথা শুনো না। আমার অভিজ্ঞতা বলে, মানুষ নিজের ক্ষেত্রে যা হয়েছে তার আলোকেই পরামর্শ দেয়।
বুড়োরা বলে, এটি করা উচিত। কারণ তারা এটি করেছে। কিন্তু আমি বলবো, পড়ালেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারা (তরুণরা)  সবাই জানে কী করতে হবে। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের উদ্যম, আগ্রহ কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেয়া। মার্টিন শ্যালফি বলেন, নতুন কিছু করা ও জানার জন্য অনুসন্ধানী মন থেকে প্রশ্ন করার কোনো বিকল্প নেই। সৃজনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিজ্ঞান থেকে সব ক্ষেত্রেই সৃজনশীলতা প্রয়োজন। জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে অজনপ্রিয় বিষয়ে কাজ করাই ভালো। গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ঘটনাটির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে রসিকতা করেন মার্টিন। তিনি বলেন, পুরস্কার পাওয়ার খবরে অনেকে উচ্ছ্বসিত হন। তাঁর ক্ষেত্রে যে কী ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছিল তা স্বীকার করতে লজ্জা বোধ করেন না। অনেক বন্ধু বলেছিল, তিনি নোবেল পুরস্কার পাবেন। আর নির্বোধের মতো তিনি রাত জেগে সে খবর জানতে অপেক্ষা করে বিফল হয়েছেন। ২০০৮ সালে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগের রাতেও তাঁর স্ত্রী তাকে বলেছিলেন, দেখো, মার্টিন। আমি জানি, গ্রিন ফ্লুরেসেন্ট প্রোটিন (জিএফপি) এক চমৎকার আবিষ্কার। বিজ্ঞানকে এটি অনেক কিছু দিয়েছে। কিন্তু সত্য হলো যে এটি কোনো দিন নোবেল পুরস্কার পাবে না। এসব বাদ দিয়ে ঘুমাও। মার্টিন শ্যালফি বলেন, আমাদের ফোন রান্নাঘরে ছিল। পরদিন ভোর ছয়টার কিছু সময় পর আমি ঘুম থেকে উঠলাম। আমার দুটো বিষয় উপলব্ধি হলো। প্রথমত, আমি পুরস্কার পাইনি। অন্য কেউ পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, দূরে কোথাও ফোন বাজার শব্দ শুনে ভেবেছি পাশের ফ্ল্যাটে হয়তো বাজছে। তিনি বলেন, এরপর আমি কম্পিউটার চালু করে দেখলাম, আমিই পুরস্কার পেয়েছি। আর আমি বিস্মিত হলাম। এরপর আরো কয়েক সপ্তাহ আমি নোবেল কমিটির ওয়েবপেজে ঢুকে প্রায়ই দেখতাম, নামটা আছে না মুছে ফেলা হয়েছে। হ্যাঁ, এটি অনেক বড় একটি বিস্ময় ছিল। এখনো তা বিস্ময়ই রয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমাকে অনুসরণ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আমি কোনো মডেল নই। আপনাদের জীবনের সঙ্গে আমার জীবন মিলবে এমনটিও নয়। তিনি অকপটে বলেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের চেয়েও অনেক বিজ্ঞানী আছেন যাদের অনেক বড় বড় আবিষ্কার আছে। নোবেল পুরস্কার বিজয়ীরাই বিজ্ঞানীদের মধ্যে সেরা, তাদের চেয়ে বুদ্ধিমান এই সমাজে আর কেউ নেই এমন ভাবনা মোটেও ঠিক নয়। এনএসইউ’র উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) বেলাল আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম, প্রো-ভিসি ড. গিয়াস ইউ আহসান, ট্রাস্টি বোর্ডের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আনোয়ার হক বক্তব্য রাখেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন