দ্রুত বিচার আইনের শাস্তি বাড়িয়ে সংসদে বিল পাস

এক্সক্লুসিভ

সংসদ রিপোর্টার | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:০৪
শাস্তি বাড়িয়ে দ্রুত বিচার আইনের সংশোধনী বিল ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০১৮’ পাস করা হয়েছে। গতকাল সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠ ভোটে পাস হয়। বিলের উপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন, রওশন আরা মান্নান ও নূরুল ইসলাম ওমর। কিন্তু সেই প্রস্তাবে আপত্তি জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়।
পাস হওয়া বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে, চাঁদাবাজি, যানবাহন চলাকালে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যানবাহনের ক্ষতিসাধন, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট করা, ছিনতাই, দস্যুতা, ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি, দরপত্র ক্রয়-বিক্রয় গ্রহণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নতির লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ (২০০২ সালের ১১ নং আইন) প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছিলো। উক্ত আইনে শাস্তির পরিমাণ কম থাকায় আইনটি সময়োপযোগী করা এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অধিকতর উন্নতির লক্ষ্যে এ আইনে নির্ধারিত শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পূর্বের আইনে শাস্তি ছিল ৫ বছরের। সংশোধনী করে এবার ৭ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পাঁচ বছরের পরিবর্তে সাত বছর শব্দগুলো প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ৮-এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সরকার বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে উক্ত আদালতের বিচারক নিযুক্ত করবে শীর্ষক নতুন (২) উপ-ধারা প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২২শে জানুয়ারি বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। এরপর ২৮শে জানুয়ারি এক বৈঠকে বিলটিতে শব্দগত তিনটি সংশোধনী আনার সুপারিশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
গাজীপুর ও রংপুর মহানগর পুলিশ বিল উত্থাপন: স্বতন্ত্র পুলিশ বাহিনী গঠন ও তা পরিচালনার জন্য বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে পৃথক দু’টি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ‘গাজীপুর মহানগরী পুলিশ আইন-২০১৮’ ও ‘রংপুর মহানগরী পুলিশ আইন-২০১৮’ নামের বিল দু’টি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিল দু’টি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। গাজীপুর মহানগরী পুলিশ আইনের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, গাজীপুর ও টঙ্গী পৌরসভার মোট ৩২৯ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। এ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনের মাধ্যমে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নতির লক্ষ্যে বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হলো। একই উদ্দেশ্য বর্ণনা করে রংপুর মহানগরী পুলিশ আইন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, রংপুর পৌর ও সংলগ্ন এলাকার মোট ২০৩ দশমিক ৬৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন গঠিত।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মন্ত্রীদের বেতন ১০ ভাগ কমালেন মাহাথির

চার মাসে ১২১২ খুন

হৃদয়ভাঙা মৃত্যু

দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা

ওআইসিতে স্থায়ী পর্যবেক্ষক দেয়ার চিন্তা

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আরো ৮

রোডম্যাপের ধারেকাছেও নেই ইসি

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি তদন্ত কর্মকর্তাদের হাইকোর্টে তলব

রাজধানীতে দিনভর দুর্ভোগ

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ফের আজ

পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে বেকায়দায় এনসিটিবি

জবিতে কোটা আন্দোলনের নেতাকে ছাত্রলীগের মারধর

সিলেটে রাস্তা দখল করে ‘গাড়ি স্ট্যান্ড’: ভোগান্তি

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয়া হবে ৮ই জুলাই

‘মাদক সম্রাট সংসদেই আছে, তাদের ফাঁসি দিন’

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা