৮শ’ পরিবার চলে ইমিটেশন গহনায়

এক্সক্লুসিভ

আমিনুল ইসলাম লিটন, ঝিনাইদহ থেকে | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, বৃহস্পতিবার
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ইমিটেশন গহনার নীরব বিপ্লব ঘটেছে। শহরের ১১টি করখানায় কাজ করে প্রায় ৮০০ পরিবার কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের ১৫টি জেলায় মানসম্মত এসব গহনা রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় সীমান্তবর্তী ঝিনাইদহ জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র বদলে যাচ্ছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফ ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল ইফাদ-এর আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতায় মহেশপুরের বিভিন্ন গ্রামে তৈরি হচ্ছে ইমিটেশন গহনা। মহেশপুর উপজেলার বৈচিতলা, নওদাগ্রাম, জলিলপুর, যোগীহুদা, রামচন্দ্রপুর, বাথানগাছি সহ দারিদ্র্যপীড়িত বিভিন্ন গ্রামে ইমিটেশন করখানা গড়ে উঠেছে।
কারখানাগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, একনিষ্ঠ মনোযোগে ছাচে আর ডিজাইনে কেউ কেউ গলাচ্ছে নানা ধাতব পদার্থ, কারো মনোযোগ নকশাতে কারো বা হাতে চলছে গহনার চূড়ান্ত ডিজাইন কেউ বা পুঁথি সাজাচ্ছে কোথাও বা চলছে স্বর্ণের সোনালি রঙের কাজ। ভাঙ্গাচোরা মাটির বা টিনশেডের ঘরে ঘরে গ্রামের পর গ্রামজুড়ে ইমিটেশন গহনা তৈরির এমন মহাযজ্ঞ চলছে মহেশপুরে। পৌরসভাসহ ৩টি ইউনিয়নে ১১টি কারখানার মাধ্যমে ভাগ্য বদলের এ গল্প শুরু হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার ফাঁকে কর্মসংস্থানের এমন সুযোগ হাতছাড়া করছে না। প্রতিদিন কাজ শেষেই পাচ্ছে নগদ টাকা, নিজের লেখাপড়ার খরচের পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করে চলেছে ক্ষুদে কারিগররা। বিশেষভাবে এ কাজে নারীদের অংশগ্রহণ লক্ষণীয়। গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে সোনার গহনার বিপরীতে দেশে প্রতিনিয়তই বাড়ছে ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারির চাহিদা। হাটবাজার, মেলাসহ নানা আয়োজনে এ গহনার পশরা সাজিয়ে বসতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রশিক্ষণ না থাকায় মহেশপুরের কারখানায় ছোট গহনা বা মালামাল তৈরি করে টিকতে পারছিল না কারিগররা। ছিল তাদের আর্থিক সংকটও। এ অবস্থায় এগিয়ে আসে শিশু নিলয় নামে একটি সংগঠন। মহেশপুরের ইমিটেশন গহনা দেশের নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, সিলেট, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, বগুড়া, রাজশাহী, যশোর ও ঢাকাসহ কমপক্ষে  দেশের ১৫টি জেলায় বিক্রি হচ্ছে। মহেশপুরের নওদা গ্রামের কারিগর শাহেদ আলী জানান, তার এই কারখানায় কাজ করে ৭ সদস্যের পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করছি। একই কথা জানালেন জলিলপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন। বাথানগাছি গ্রামের অনার্সপড়ুয়া ছাত্রী মৌসুমি জানায় ইমিটেশনের বড় বড় গহনা তৈরি করেন তারা। এই ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাছিমা বেগম জানান, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের লাভজনক ব্যবসার সুযোগ, দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মুজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থান, পণ্যের বাজার সমপ্রসারণের মাধ্যমে বিক্রয় ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিকেএসএফ ও ইফাদ-এর আর্থিক সহযোগিতায় ৩ বছর মেয়দি এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে অচিরেই এই প্রকল্প সাফল্যের মুখ দেখবে বলে তিনি মনে করেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রমাণ ধ্বংস করে দিচ্ছে মিয়ানমার

আসাম নিয়ে আশঙ্কায় বাংলাদেশ

গুপ্তচর ছিলেন বৃটেনের বিরোধী দলীয় নেতা?

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নির্ণয়ের তিন ইস্যু

দুর্নীতির সূচকে ৮ ধাপ উন্নতি বাংলাদেশের

আপিল শুনানি এক সপ্তাহ মুলতবি

‘আমি সেই কঠিন কাজটি করতে চাই’

‘ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের নেপথ্যে চীন সমর্থনপুষ্ট পাকিস্তান’

মেডিকেল টেস্ট নিয়ে অরাজকতা

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই

নেশার ভয়ঙ্কর জগতে শিশুরাও

মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিতে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দিন

অনিশ্চয়তা প্রভাব ফেলছে অর্থনীতির ওপর

শনিবার কালো পতাকা মিছিল বিএনপি’র

জুয়ার আসরে উড়ছে কোটি টাকা

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভাষা শহীদদের স্মরণ