ট্রাম্পের জাতিবিদ্বেষী কটূক্তি

ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ

বিশ্বজমিন

নাজমুস সাদাত পারভেজ | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, রোববার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামেপর উগ্র ব্যক্তিত্ব এবং আচরণের কথা সর্বজনবিদিত। বিতর্কিত কথাবার্তা বলায় তার জুড়ি মেলা ভার। নিজের মেয়াদের এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই শুধুমাত্র বেফাঁস মন্তব্যে করার প্রবণতাই তাকে নিন্দিত করে তুলেছে। গণমাধ্যমে তার আচরণের ধরন এবং মন্তব্যের ভাষা নিয়ে যে পরিমাণ নিন্দা করা হয়ে থাকে, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসে বিরল। সমপ্রতি আফ্রিকার জাতিগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে ট্রামপ করেছেন একটি চরম অবমাননাকর মন্তব্য। বৃহসপতিবার ওভাল অফিসে অভিবাসন নীতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি আফ্রিকান কয়েকটি দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কেন নোংরা দেশের লোকজনকে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে দেয়া হচ্ছে?’ এখানে নোংরা বলতে গিয়ে তিনি যে শব্দটি ব্যবহার করেছেন- তা হলো ‘শিটহোল’।
ভদ্র ভাষায় যার অনুবাদ দাঁড়ায় ‘পয়ঃবর্জ্যের স্তূপ’। যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মুখে এমন জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যেন হতবিহ্বল হয়ে গেছেন সবাই। একজন সুস্থ মস্তিষ্কের বিশ্ব ব্যক্তিত্ব কিভাবে এমন কথা বললেন, তা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করছেন মানুষ। ট্রামেপর মন্তব্য যাদের প্রতি তাক করে করা, সবচেয়ে বেশি হৃদয়ে রক্তক্ষরণ তাদেরই হওয়ার কথা। তার এমন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আফ্রিকান রাষ্ট্রসমূহের জোট- আফ্রিকান ইউনিয়ন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা অনলাইন। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত আফ্রিকান ইউনিয়নের মিশন অফিস ট্রামেপর এই মন্তব্যেকে ‘দুঃখজনক, আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ও চূড়ান্ত অবমাননাকর’ বলে উল্লেখ করেছে। বলেছে, ট্রামেপর এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে মানবিক মর্যাদার মূল্যায়ন, জাতিগত বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের যে ধারা- তা বিনষ্ট হয়েছে। আমরা এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি এও বলতে চাই, আফ্রিকার দেশ এবং মানুষ সমপর্কে বর্তমান প্রশাসন ভুল ধারণা পোষণ করছে। এই ভুল বোঝাবুঝি নিরসনে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসনের আলোচনা করা প্রয়োজন।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া

ট্রামেপর জাতি বিদ্বেষী মন্তব্যের জবাবে বিশ্বব্যাপী কড়া প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, মেক্সিকোর সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রামেপর এ মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, কোন অধিকারে তিনি (ট্রামপ) বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কে আসবে আর কে আসতে পারবে না? তিনি ট্রামেপর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ‘পয়ঃবর্জ্যের স্তূপ’ বাক্যটির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তার মুখ আসলে ওরকম! বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আইনপ্রণেতা গিয়ানা পিতেলা বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, কথা বলার আগে নিজের মস্তিষ্ক চালু করার কথা ভুলে গিয়েছিলেন ট্রামপ! সেনেগালের প্রেসিডেন্ট মেকি সাল টুইটে বলেছেন, আমি ট্রামেপর এ মন্তব্যকে সদম্ভে প্রত্যাখ্যান করছি। আফ্রিকার মানুষের সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, বোতসোয়ানা সে দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জানতে চেয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কি প্রকৃতপক্ষেই বোতসোয়ানাকে নোংরা দেশ বলে বিবেচনা করে কি না। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিলে বলেছেন, ট্রামেপর মন্তব্য যদি সত্যি হয়, তা হবে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং আঘাতমূলক। আরও বলেন, এ ধরনের মন্তব্যকে ‘জাতিবিদ্বেষ’ ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। এ ধরনের মন্তব্যকে শুধুমাত্র ভাষার অপব্যবহার বলা যায় না। এটিকে বলতে হয় মানবতার চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দ্বার খুলে দেয়া।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ট্রামেপর সামপ্রতিক মন্তব্য যে শুধু বৈশ্বিক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে তা নয়। তার এ মন্তব্যে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। জ্যেষ্ঠ সিনেটর ডিক ডারবিন বলেছেন, ট্রামেপর ওই কটূক্তিতে আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না! হোয়াইট হাউজের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টকে আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের কথা বলতে শুনিনি। বিগত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ট্রামেপর বর্ণবাদী মনোভাবের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, যে-ই দেখতে তার মতো নয়, তার প্রতি-ই তিনি আক্রমণাত্মক এবং বিদ্বেষভাবাপন্ন। এছাড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজনীতিবিদ এবং বিখ্যাতজনেরা। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত আফ্রিকান ইউনিয়নের মুখপাত্র এব্বা কলান্ডু বলেছেন, বাস্তবার নিরিখে বিবেচনা করলে বহু আফ্রিকান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন কৃতদাস হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের গঠন ও উন্নয়নের সে সব দেশের নাগরিকের অবদান ভুলে আজ তাদেরকে নোংরা বলে অভিহিত করা হলো। এই মন্তব্য গ্রহণযোগ্য ব্যবহারের সকল সীমা অতিক্রম করেছে।
তবে চরম নিন্দার মুখে এই মন্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে এখনো মুখ খোলেননি ট্রামপ। আফ্রিকান একটি দেশের (হাইতি) সমপর্কে নিজের বিরূপ মন্তব্যের কথা ঠিক নয় জানিয়ে শুক্রবার এক টুইটে তিনি লেখেন, এখন থেকে ভবিষ্যতের সব বৈঠক রেকর্ড করে রাখতে হবে। কারণ, দুঃখজনকভাবে, বিশ্বাসের বড় অভাব! ট্রামেপর সঙ্গে গলা মিলিয়ে ওই সভায় উপস্থিত দুয়েকজন সিনেটর যদিও ট্রামেপর দোষমুক্তির অভিপ্রায়ে বলেছেন, ট্রামপ এ ধরনের কোনো কটূক্তি করেছেন বলে তাদের মনে পড়ে না। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ট্রামপ যে এমন মন্তব্য করেছেন এর স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশের একজন রাষ্ট্রনায়কের মুখে যে এমন কথা শুধু বেমানান নয়, চরম অগ্রহণযোগ্যও- সেটাও এখন তিনি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অভিযোগের পাহাড়, অসহায় ইউজিসি

প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না আজ

মৈত্রী এক্সপ্রেসে শ্লীলতাহানির শিকার বাংলাদেশি নারী

‘২০৬ নম্বর কক্ষে আছি, আমরা আত্মহত্যা করছি’

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারালেন ঢাবি ছাত্র

পুলে যাচ্ছে সেই সব বিলাসবহুল গাড়ি

নীলক্ষেত মোড়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, এমপির আশ্বাসে স্থগিত

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর সফল করতে নির্দেশনা

নেতাকর্মীরা জেলে থাকলে নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তিন দিনের ধর্মঘটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ইডিয়ট বললেন মারডক

সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে

২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

বাসায় ফিরছেন মেয়র আইভী

‘আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে’

জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে: মোশাররফ