চুনারুঘাটে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

বাংলারজমিন

নুরুল আমিন, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) থেকে | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, রোববার
চুনারুঘাট সীমান্তের শতাধিক স্পটে চলছে দেশি-বিদেশি মদের ব্যাবসা। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় বিভিন্ন জাতের মাদক। গ্রাম থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা সব খানেই মরণ নেশা মাদক বিকিকিনি হয় অবাধে। আজন্ম ব্যবসায়ীরা রীতিমতো মদের হাট বসিয়েছে সীমান্ত গ্রামগুলোতে। নারী-শিশুরাও এ ব্যবসা জড়িয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক লেবাসধারীরা মাদক ব্যবসার মদত দিচ্ছেন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে।
সীমান্তের একটি শক্তিশালী চক্র এ ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করে দিন দিন ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছে। নেশার রাজ্যে ডুবে যাচ্ছে পুরো সমাজ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক ব্যবসা রোধ করতে পারছে না। নারকটিক্স বিভাগ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে অসহায়। তবে বিজিবি’র দাবি গেলো বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চুনারুঘাট ও মাধবপুর সীমান্ত থেকে ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩শ ৫৫ টাকার মাদক উদ্ধার করা হয়। সূত্র জানায়, এ সময়ের মধ্যে পাচার হয়েছে অন্তত ১শ কোটি টাকার মাদক। বাল্লা সীমান্তের টেকেরঘাট, পাক্কাবাড়ী, বড়ক্ষের, টিলাবাড়ী, গোবরখলা, ফাটাবিল, গাজীপুর, রেমা, আলীনগর, আহমদাবাদ ইউপি’র চিমটিবিল খাস, আমুরোড বাজার, আমু চা বাগান, নালুয়া চা বাগানসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের শতাধিক নারী-পুরুষ মাদক ব্যবসায় জড়িত। চোরাই ব্যবসায়ীরা সীমান্তের কুলিবাড়ী, শ্মশানঘাট, বড়ইতলা, মোকামঘাট,বড়ক্ষের, চিমচিবিল, গুইবিল, রেমা, সাতছড়ি, কালেঙ্গার অন্তত ১০টি পয়েন্ট দিয়ে অফিসার চয়েজ, নাম্বার ওয়ান, ভটকা, ম্যাকডুয়েল, বিয়ার, ফেনসিডিল, কোরেক্স, বাংলা মদ, গাঁজা এবং নানা ধরনের যৌন উত্তেজক বড়ির চালান নিয়ে আসে। সীমান্তরক্ষী বিজিবি মাদকের চালান আটকাতে পারছে না তবে বিশেষ ব্যবস্থায় ২ নাম্বার মদের বোতল জব্দ দেখিয়ে মামলা করে চলেছে। যেখানে ২শ টাকার মদের বোতলে দাম ধরা হয় ১৫শ’ টাকা। সীমান্তের গোবরখলা, টেকেরঘাট, আমু চা বাগান, টিমটিবিল খাস এবং আহমদাবাদ ইউপির বনগাঁও গ্রামের চিহ্নিত চোরা ব্যবসায়ীরা মধ্যস্বত্বভোগী যারা কিনা বিজিবি-পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেয় তাদের বখরা দিয়ে মাদকের চালান পৌঁছে দিচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। ওই বখরাখোরদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কোন কোন সদস্যের রয়েছে গলায় গলায় ভাব। সীমান্তে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতেও দেখা যায়। প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মাদকের চালান যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। গাজীপুর ইউপির বাল্লা, ইছালিয়া সেতু, সাদ্দাম বাজার, আমু চা বাগান বাজার, চিমটিবিলখাস ও আমুরোড বাঁশতলা হয়ে বাস-টেম্পো, সিএনজি, মোটরসাইকেল, রিকশা-ঠেলাগাড়ি করে মাদকের চালান যায় গন্তব্যে। র‌্যাব-বিজিবি মাঝেমধ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের তাড়া করছে কিন্তু কৌশলী ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। চিহ্নিত ব্যবসায়ীরা আসামপাড়া বাজারে বসে ফেরি করে মাদক ব্যবসা করছে। নানা অনুষ্ঠানে বিজিবি’র দায়িত্বশীল অফিসার ও থানার ওসি মাদকের বিষয়ে জিহাদ ঘোষণা করলেও মাদক চালানতো কমেনি বরং বেড়েছে কয়েকগুণ। সীমান্তে মাদক চোরাচালানের বিষয়টি নিয়ে সরকারের একটি বিশেষ সংস্থা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে সম্প্রতি। মাদক চোরাচালানের বিষয়ে বিজিবি ও পুলিশ বলছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করছেন প্রতিদিন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অভিযোগের পাহাড়, অসহায় ইউজিসি

প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না আজ

মৈত্রী এক্সপ্রেসে শ্লীলতাহানির শিকার বাংলাদেশি নারী

‘২০৬ নম্বর কক্ষে আছি, আমরা আত্মহত্যা করছি’

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারালেন ঢাবি ছাত্র

পুলে যাচ্ছে সেই সব বিলাসবহুল গাড়ি

নীলক্ষেত মোড়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, এমপির আশ্বাসে স্থগিত

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর সফল করতে নির্দেশনা

নেতাকর্মীরা জেলে থাকলে নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তিন দিনের ধর্মঘটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ইডিয়ট বললেন মারডক

সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে

২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

বাসায় ফিরছেন মেয়র আইভী

‘আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে’

জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে: মোশাররফ