মৌলভীবাজারে মাছের মেলা

বাংলারজমিন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, রোববার
মৌলভীবাজার জেলার ঐতিহ্যবাহী শেরপুর মাছের মেলায় পুরনো ঐতিহ্য ফিরেছে। এখানে এখন শুধু মেলাই বসে। এক সময় মেলার অনুষঙ্গ হয়ে ওঠা পুতুল নৃত্যের আড়ালে অশ্লীল নৃত্য এবং জুয়ার আসর এখন আর বসে না। আর এটি সম্ভব হয়েছে প্রশাসনের সময়োচিত ভূমিকা এবং সচেতন এলাকাবাসীর চাহিদায়। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড মুক্ত হওয়ায় মেলার ইজারা মূল্য কমে গেছে। গতবছর (২০১৭) ইজারা ছিল ৩ লাখ টাকায়।
এইবার ইজারা দেয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। তবুও এলাকার মানুষ খুশি মেলা কালিমামুক্ত হওয়ায়। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শেরপুর মাছের মেলা শুরু হয়েছে গত রাত (শুক্রবার) থেকে। প্রতিবছর পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে শেরপুর কুশিয়ারা নদীর কোলঘেঁষে এই মেলা বসে। পৌষসংক্রান্তির পূর্বের রাতে মূলত মাছ বেচা-বিক্রি হয়। বিশাল আকারের নানা রকম মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। মাছের মেলা নাম হলেও এখানে গৃহস্থালীর নানা উপকরণ নিয়ে বসে ব্যবসায়ীরা। তাই এই মেলা উপলক্ষে এই অঞ্চলের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ পৌষের শেষ দিনগুলোতে বেশ ব্যতিব্যস্তই হয়েই উঠেন। এই মেলাকে উপলক্ষ করে শেরপুর এলাকার আশপাশের মানুষের মধ্যে পৌষসংক্রান্তির সময় অনাবিল এক আনন্দ দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরেই চলে আসছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই মাছের মেলা এক সময় বসতো মনুরমুখ এলাকায় কুশিয়ারা নদীর তীরে। এটি এখন স্থান পরিবর্তন হয়ে বিগত ৪৫/৫০ বছর ধরে মেলা বসে খলিলপুর ইউনিয়নের শেরপুরে। আর এই মেলার দিনকে সামনে রেখে পৌষসংক্রান্তির পূর্ব থেকেই চলে প্রস্তুতি। এই মেলায় বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যেমন ব্যবসায়ীরা আসেন। তেমনি আসেন ক্রেতারাও। হাজার হাজার মৎস্য ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে বিশাল আকৃতির মাছ সংগ্রহ করে এই মেলায় নিয়ে আসেন। এই মেলায় অনেক ভোজন বিলাসী মানুষ পছন্দের মাছ কিনতে আসেন। জানা যায়, এই মেলার কথা মাথায় রেখে মৎস্যচাষীরা তাদের জলমহাল থেকে সেরা মাছ আহরণ করেন এই সময় এবং বিক্রি করেন এই মেলায়। মূলত এই মেলা চলে এক রাত একদিন। অগ্রহায়ণের নবান্ন উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই শীত জড়ানো পৌষের পিঠা-পুলি আর মুড়ি-মুড়কির পাশাপাশি আরেক আনন্দানুভূতি নিয়ে প্রতিবছর হাজির হয় ঐতিহ্যপ্রেমী বৃহত্তর সিলেটবাসীর কাছে এই মাছের মেলা। মাছের মেলা হলেও মাছ ছাড়াও এই মেলায় সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং কারুপণ্যের পসরাও সাজিয়ে বসে ব্যবসায়িরা। এছাড়া কাটের আসবাব পত্র বিক্রির জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ফার্নিচেয়ার সামগ্রী নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। মেলায় মাছ ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসেন নানান প্রকার ও আকৃতির মাছ। বিশাল আকৃতির বাঘাইড়, বোয়াল, রুই, চিতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর মাছ মেলায় আনা হয়। লোকসমাগম হয় প্রচুর। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাছের মেলাকে কেন্দ্র করে আগ থেকেই কে কত বড় আকৃতির মাছ মেলায় উঠাতে পারেন এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে চলে এক ধরনের প্রতিযোগিতা। স্থানীয় হাওর-বাওর মাছের খামার ছাড়াও সিলেট, হবিগঞ্জের সুনামগঞ্জ, মারকুলি এবং দেশের বড়বড় আড়ৎ থেকেও মাছ নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। মেলা আয়োজন কারি ও ব্যবসায়ীদের ধারণা মতে এক রাতেই মাছের মেলায় কম করে হলেও প্রায় কয়েক কোটি টাকার মাছ কিক্রি হয়। অনেকের ধারণা এই মেলায় আরো কয়েক টাকার বাণিজ্য হয় সব মিলিয়ে। শুক্রবার খলিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান অরবিন্দু পোদ্দার বাচ্ছু জানান, গত বছর থেকে মেলাকে শুধু মেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ফলে গত বছর যেমন জুয়ার আসর বা নৃত্যের (অশ্লীল নৃত্যের আসর) আসর বসেনি। এবারও একই ধারা অব্যাহত রাখা হবে। এছাড়াও মেলায় অংশ নেয়া ব্যবসায়ীরা যাতে হয়রানির স্বীকার না হন তাই দোকান কোটার ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন এইবার মাছের মেলা ইজারা দেয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। ২০১৭ সালে এই ইজারা দেয়া হয়েছিল ৩ লাখ টাকায়।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অভিযোগের পাহাড়, অসহায় ইউজিসি

প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না আজ

মৈত্রী এক্সপ্রেসে শ্লীলতাহানির শিকার বাংলাদেশি নারী

‘২০৬ নম্বর কক্ষে আছি, আমরা আত্মহত্যা করছি’

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারালেন ঢাবি ছাত্র

পুলে যাচ্ছে সেই সব বিলাসবহুল গাড়ি

নীলক্ষেত মোড়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, এমপির আশ্বাসে স্থগিত

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর সফল করতে নির্দেশনা

নেতাকর্মীরা জেলে থাকলে নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তিন দিনের ধর্মঘটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ইডিয়ট বললেন মারডক

সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে

২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

বাসায় ফিরছেন মেয়র আইভী

‘আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে’

জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে: মোশাররফ