‘আমাগো মাঠে দাঁড়াইয়া ক্লাস করা লাগে’

বাংলারজমিন

মোরশেদ আলম, চাঁদপুর থেকে | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, রোববার
মতলব উত্তর উপজেলার ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণও। ফলে এসব ভবনে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠ ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে! ঝুঁকি এড়াতে একটি বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে মাঠে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই উপজেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮০টি। এর মধ্যে নাসিরারকান্দি, কেশাইরকান্দি, দক্ষিণ রামপুর, চরলক্ষ্মীপুর, ফতুয়াকান্দি, হানিরপাড়, ইমামপুর, মাইজকান্দি, গোলাপকান্দি, নয়াকান্দি, রসুলপুর, উত্তর লুধুয়া, উত্তর মান্দারতলী, পাঠানচক, হিজলাকান্দি, উত্তর ইসলামাবাদ, শিবপুর, মজলিশপুর, বিনন্দপুর, কলসভাঙ্গা, ভাটিরসুলপুর, সর্দারকান্দি, সুজাতপুর, ধনাগোদা, ছোট কিনারচক, পাঠানবাজার, ঝিনাইয়া, কলাকান্দা, সুগন্ধি ও দক্ষিণ উদ্দমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ।
উপজেলা প্রকৌশলীর (এলজিইডি) পরামর্শক্রমে ২০১২ সালে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় এসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে। এর মধ্যে রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি কয়েক বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। আর সব মিলিয়ে ১৮০টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার রসুলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখাযায়, ভবন জরাজীর্ণ। ৩টি শ্রেণিকক্ষের সবই পাঠদানের অনুপযোগী। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় খোলা মাঠে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ না থাকায় দাঁড়িয়েই পাঠ গ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা। জানাযায়, ২০১২ সালে ওই বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও আজও নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। রসুলপুর বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবরিনা জানান, ‘ক্লাসরুম ও বেঞ্চ না থাকায় আমাগো মাঠে দাঁড়াইয়া ক্লাস করা লাগে। বৃষ্টি ও রোদের সময় ক্লাস করা যায় না। অ্যামনে আমাগো পড়ালেহার ক্ষতি অইতাছে। আমাগো স্কুলে একটা নতুন বিল্ডিং দরকার।’
রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ রুনা আক্তার বলেন, ২০১২ সালে ওই বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তখন থেকে খোলা মাঠে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ না থাকায় দাঁড়িয়েই বাধ্য হয়েই পাঠদান করছি। বিষয়টি শিক্ষা কার্যালয়ে জানানো হয়েছে।
পাঠানবাজার, দক্ষিণ উদ্দমদী, উত্তর লুধুয়া, উত্তর মান্দারতলী ও ভাটিরসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, এসব বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদ ও দেয়ালে বড় বড় ফাটল। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তরা। মেঝে ভাঙাচোরা। আবার কিছু বিদ্যালয়ের মেঝে দেবে গেছে। বিদ্যালয়গুলোর জানালা-দরজা ভাঙা। সেখানে ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়েই চলছে পাঠদান। পাঠানবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ হালিমা নাজনীন বলেন, শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও দেয়াল ভেঙ্গে পলেস্তরা ছুটে নিচে পড়ার আতঙ্ক নিয়ে বিদ্যালয়ে ২২৫ জন শিক্ষার্থীদের প্রায় পাঁচ বছর ধরে ঝুঁকির মধ্যেই সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনের তালিকা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অভিযোগের পাহাড়, অসহায় ইউজিসি

প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না আজ

মৈত্রী এক্সপ্রেসে শ্লীলতাহানির শিকার বাংলাদেশি নারী

‘২০৬ নম্বর কক্ষে আছি, আমরা আত্মহত্যা করছি’

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারালেন ঢাবি ছাত্র

পুলে যাচ্ছে সেই সব বিলাসবহুল গাড়ি

নীলক্ষেত মোড়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, এমপির আশ্বাসে স্থগিত

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর সফল করতে নির্দেশনা

নেতাকর্মীরা জেলে থাকলে নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তিন দিনের ধর্মঘটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ইডিয়ট বললেন মারডক

সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে

২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

বাসায় ফিরছেন মেয়র আইভী

‘আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে’

জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে: মোশাররফ