সারা দেশে হিমেল হাওয়া কাঁপছে অসহায় মানুষ

বাংলারজমিন

বাংলারজমিন ডেস্ক | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার
 টানা শৈত্যপ্রবাহ আর ঘনকুয়াশায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীত নিবারণে গরম কাপড় ও কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠন। সেসব খবর পাঠিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা।
দিনাজপুর
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে: দিনাজপুর জেলার শীতার্ত মানুষকে তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষায় জেলা প্রশাসন প্রায় ৭৭ হাজার পিস শীতবস্ত্র কম্বল এবং ৩ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেছে। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম।
প্রেসব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর হতে প্রাপ্ত ও গত অর্থ বছরের জেরসহ ৭৯ হাজার ৪৭০ পিস শীতবস্ত্র কম্বল পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে এ পর্যন্ত জেলার ১৩ উপজেলায় শীতার্ত মানুষের মাঝে ৭৬ হাজার ৮২০ পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিতরণ করা হয়েছে ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার।
বর্তমানে জেলায় ২ হাজার ৬৫০ পিস কম্বল এবং ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।
দিনাজপুরে চলমান শৈত্যপ্রবাহে শীতার্ত অসহায় জনগণের জন্য প্রাপ্ত কম্বল/ত্রাণসামগ্রী বিতরণ বিষয়ে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম আরো বলেন, শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম মনিটরিং করতে প্রায় সপ্তাহ খানেক সময় ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফজলুল করিম চৌধুরী দিনাজপুরে অবস্থান করছেন। প্রেসব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ফজলুল করিম চৌধুরী, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মুখলেছুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ইমতিয়াজ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও জেলা প্রশাসন অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আফতাবুজ্জামান আল-ইমরানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
পলাশবাড়ী
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: পলাশবাড়ীতে নমিজান-আফতাবী ফাউন্ডেশন (নাফ) অর্থায়নে ও নিবিড় ক্যান্সার হেল্‌থ অ্যান্ড এডুকেশন সোসাইটির উদ্যোগে  দুস্থ-অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে ১শ’ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বিকালে স্থানীয় স্টুডেন্ট কেয়ার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান পলাশবাড়ী সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ (অব.) শাহজাহান আলী সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন সরকার।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কাশিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মিথুন ও মহদীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন, নিবিড় ক্যান্সার হেল্‌থ অ্যান্ড এডুকেশন সোসাইটি’র নির্বাহী পরিচালক আবদুল্যাহ-আল-মামুন।
ভেড়ামারা
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: শীতে কাঁপছে অসহায় হতদরিদ্র বাতাসীর পরিবার। শীত নিবারণের তেমন কোনো বস্ত্র নেই। এক টুকরো ছেঁড়া কাঁথায় শীত নিবারণের ব্যর্থ প্রচেষ্টা তাদের। তীব্র শীতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে পরিবারের চার সদস্য। দিন কোনো মতে গেলেও থেমে যায় রাত। শীতে কাঁপতে থাকে পুরো পরিবার। হাড় কাঁপানো শীতে প্রকৃত অসহায় দুস্থ খুঁজতে গিয়ে  ভেড়ামারা শহরের ক্যানালপাড়ার আদিবাসী পল্লীর বাতাসীর বাড়িতে গভীর রাতে হাজির ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন। নেতৃত্বে রয়েছেন, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ। সঙ্গে আছেন- ভেড়ামারার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল মিয়া, ভেড়ামারা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মজিদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আকানেওয়াজ। অসহায় বাতাসীর হাতে এ সময় তুলে দেয়া হয় শীতবস্ত্র কম্বল এবং কিছু খাবার। গভীর রাতে এভাবে শীত নিবারণের কম্বল পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন বাতাসী এবং তার পরিবার।
এভাবেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতবস্ত্র দেয়া হয় ভ্যানচালক আব্দুল জব্বার, কুলসুমসহ একাধিক বাড়িতে। এরপর রাতেই চলে যান, পদ্মা চরের জেলে পল্লীতে। সেখানে হতদরিদ্র নূরী পাগল, প্রতিবন্ধী জারাম কানা, রহম খালা, বিধবা জরি, রহিম পাগলার ঘরসহ একাধিক ঘরে বিতরণ করা হয় শীতবস্ত্র ও খাবার। সহকারী কমিশনার ভূমি রাসেল মিয়াসহ কর্মকর্তারা নিজে বহন করে পৌঁছে দেন শীতার্তদের বাড়িতে। এরা যেন অন্য মানুষ। গভীর রাতে যারা অসহায় দুস্থদের বাড়ি গিয়ে ঘুম থেকে ডেকে ডেকে তাদের দিচ্ছেন শীতবস্ত্র ও খাবার। এরপর ত্রাণবাহী গাড়ি ছুটে চলে জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পরানখালী গ্রামে। এখানে সীমাহীন অভাবী বয়োবৃদ্ধ জামসেদ আলী, কমলা, প্রতিবন্ধী রোকন লুলা, বিমল ও বিধবা তাপসীসহ একাধিক পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয় শীতবস্ত্র ও খাবার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী।
সাটুরিয়া
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া উপজেলার অসহায়, দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, যাত্রী ছাউনী, শুভযাত্রা বাসস্ট্যান্ড ও সাটুরিয়ার বিভিন্ন স্ট্যান্ড ও বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরী রাজ্যের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাবেয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম খানের নিজস্ব অর্থায়নে ১ হাজার অসহায়, দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া তিনি গতকাল বালিয়াটী, সাটুরিয়া, দরগ্রাম ও দিঘলিয়াতে শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন। সাটুরিয়া ফাস্ট গ্রুপের ১০ হাজার সদস্য এই আমেরিকান প্রবাসীকে কম্বল বিতরণে সহযোগিতা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাটুরিয়া ফাস্ট গ্রুপের সদস্য মাহফুজুল ইসলাম খান রত্ন, ফিরোজ আল মামুন, আব্দুস সালাম, মনোয়ার মনোয়ার হোসেন, বাদল, হুমায়ুন ও রুবেল প্রমুখ।
রামগঞ্জ
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু ইউসুফ। বৃহস্পতিবার রাতে এনসিসি ব্যাংক রামগঞ্জ শাখার উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। রাত ৮টায় রামগঞ্জ বাইপাস সড়কে দুস্থ ও অসহায় লোকজনদের শনাক্ত করে ওই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এনসিসি ব্যাংক রামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মাহতাব উদ্দিন খন্দকারের  নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ আ.ক.ম রুহুল আমীন, পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী, রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তোতা মিয়া, রামগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) শান্তনু চৌধুরী ও পল্লীবিদ্যুৎ রামগঞ্জ শাখার ডিজিএম ইশমত কামালসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


চিরিরবন্দর

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ‘বাহে তোরা হামাক এই কনকনে জারত (আমাদের) কম্বল দিয়া জার (ঠাণ্ডা) থাকিয়া রক্ষা করিলেন। আল্লাহ তোমার ভালো করুক।’ শীতবস্ত্র পেয়ে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বৃদ্ধা মতিজন বেওয়া (১০৫) ও নান্দেড়াই গ্রামের বৃদ্ধ মোসলেম উদ্দিন (৯৫) নামের দু’জন। উপজেলার বেলতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে গতকাল সকালে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত দু’শতাধিক হত-দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ করেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. গোলাম রব্বানী।
এ সময় প্রথম আলোর বিরামপুর প্রতিনিধি এএসএম আলমগীর, চিরিরবন্দর প্রেস ক্লাবের সম্পাদক ওএফএম মোরশেদ-উল-আলম, যুগ্ম-সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ
নওগাঁ প্রতিনিধি: দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গতকাল রেকর্ড করা হয় নওগাঁয় ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে ভোর থেকে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শৈত্যপ্রবাহে স্থবির হয়ে আছে জনজীবন। নিম্ন আয়ের কর্মজীবী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে ঠেকেছে। ক্ষতি হচ্ছে ইরি বোরোর বীজতলা। ব্যাহত হচ্ছে চলতি মৌসুমের ইরি বোরো চাষাবাদ। বিশেষ করে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছে মানুষ। শীত থেকে গবাদি পশুকে রক্ষায় চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখছে। একটু গরমের খোঁজে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে মানুষ। আগামী আরো দু’একদিন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বদলগাছি আবহাওয়া অফিস এর উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. হামিদুল হক।
মুরাদনগর
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবীপুর মেরিট কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মাঠে গতকাল দুপুরে গরিব, দুস্থ, অসহায় ও শীতার্ত শতাধিক মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে পোদ্দার অ্যান্ড অ্যাসোশিয়েশন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পোদ্দার অ্যান্ড অ্যাসোশিয়েশনের মালিক জয়ন্ত কুমার পোদ্দার ও শুশান্ত কুমার পোদ্দার, মেরিট কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান, ডাক্তার আবুল বাশার, ব্যবসায়ী নেকলেছুর রহমান, রানা পোদ্দার, শিক্ষক আল-আমিন ও ইসহাক মিয়া প্রমুখ।
চিলমারী
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: বাড়ছে শীত কাঁপছে চিলমারী।  চলে গেছে বন্যা রেখে গেছে ক্ষতচিহ্ন- এবার এসেছে শীত কাঁপিয়ে তুলছে চিলমারীকে। বিপাকে পড়েছে মানুষজন। দিন দিন চিলমারীতে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে উপজেলার চরাঞ্চল ও বাঁধ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় শীতের তীব্রতা খুব বেশি হওয়ায় কাহিল হয়ে পড়েছে এলাকার দুস্থ ও অসহায় মানুষজন। কয়েকদিন ধরে দেখা দিয়েছে হালকা শিরশিরে হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশা। তাপমাত্রা কম হওয়ার ফলে  দেখা দিয়েছে শীতজনিত নানা  রোগ। এতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ। উপজেলার বাঁধ এলাকা, অষ্টমীরচর, নয়ারহাট, বড়চর, পাত্রখাতা, ঠগেরহাট, ব্যাংমারা,  ঢুষমারাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীতে কাহিল দুস্থ ও অসহায় মানুষগুলোর দুর্বিষহ জীবন যাপনের কিছু চিত্র। চর পাত্রখাতা এলাকার খোদা বকস ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ থরথর করে কাঁপছিলেন। কথা হলে তিনি বলেন, হামরা গরিব মানুষ বা গরম কাপড় কোনঠে (কোথায়) পামো। আইতোত (রাতে) ছিঁড়া খ্যাতা (কাঁথা) গাওত (গায়ে) দিয়া নিন (ঘুম) ধরে না। এই জারোত (ঠাণ্ডা) বুঝি মুই আর বাঁচপ্যার ন্যাং। শুধু খোদা বকস আলী নয় এলাকার মনদির (৮৫) ও হক সাহেব (৮২)সহ অনেকে জানান, তাদের শীতবস্ত্র ক্রয়ের ইচ্ছে থাকলেও অর্থাভাবে তারা ক্রয় করতে পারছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষজন বর্তমানে ঠিকমতো দু’বেলা খেতে পারছেন না। এ অবস্থায় শীতবস্ত্র ক্রয় করবেন কিভাবে। চরঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার পরিবারের নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা শীতবস্ত্রের অভাবে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
সাদুল্যাপুর

সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: সাদুল্যাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গত ১০ দিনের ঘনকুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার অসহনীয় শীতে মানবজীবনে জবুথবু অবস্থা বিরাজ করছে। শীতে কাবু মানুষগুলো যেন ঘর থেকে বেরুতে পারছে না। এর ফলে রাস্তাঘাট জনশূন্যসহ হাট-বাজার এবং শহর-বন্দরের ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।
টানা শৈত্যপ্রবাহ আর ঘনকুয়াশায় চরম বেকায়দায় পড়েছে দরিদ্র পরিবারের মানুষ। অনেককে গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে কোনোমতে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। দিন-রাত ঘন কুয়াশায় বৃষ্টির মতো শিশির পড়ছে। হিমেল হাওয়া ও কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে সর্বত্র। সূর্যের আলো মাঝে মধ্যে উঁকি মারছে। অসহনীয় শীতের কারণে দিনমজুর মানুষগুলো শ্রম বিক্রি করতে ঘর থেকে বেরুতে পারছেন না। ফলে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে শ্রমজীবী মানুষেরা। অব্যাহত শীতের কারণে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা গরম কাপড়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আর বিত্তবান মানুষ ওই বস্ত্র কিনতে পারলেও গরিব মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। ফলে শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্র-ছিন্নমূল মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দীর্ঘ শীতের কারণে বৃদ্ধ-শিশুদের নানা রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। শীতজনিত কারণে সাদুল্যাপুর উপজেলার আউয়াল প্রধান (৮২), মোতালেব মিয়া (৬০) সহ এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সকালে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকেরা জানান, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত সর্দি কাশি, হাঁপানি, পেটের পীড়া, কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ভিড় পরিলক্ষিত হয়। রোগীদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এ ছাড়াও গ্রামাঞ্চলের গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছে গৃহস্থরা। এসব পশু পাখির খাদ্য সংকটসহ দেখা দিয়েছে বহুবিধ রোগ বালাই। এর ফলে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগীর মোড়ক দেখা দিয়েছে। এদিকে কুয়াশা অব্যাহত থাকায় সবজি চাষিদের ফসল নষ্ট হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের বীজতলা হলুদ বর্ণে বিবর্ণ হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের বোরো চষে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অভিযোগের পাহাড়, অসহায় ইউজিসি

প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না আজ

মৈত্রী এক্সপ্রেসে শ্লীলতাহানির শিকার বাংলাদেশি নারী

‘২০৬ নম্বর কক্ষে আছি, আমরা আত্মহত্যা করছি’

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারালেন ঢাবি ছাত্র

পুলে যাচ্ছে সেই সব বিলাসবহুল গাড়ি

নীলক্ষেত মোড়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, এমপির আশ্বাসে স্থগিত

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর সফল করতে নির্দেশনা

নেতাকর্মীরা জেলে থাকলে নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তিন দিনের ধর্মঘটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ইডিয়ট বললেন মারডক

সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে

২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

বাসায় ফিরছেন মেয়র আইভী

‘আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে’

জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে: মোশাররফ