হাইকোর্টের রায় মানছে না কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর

বাংলারজমিন

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার
 কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন দেশের ৬৪টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৫ জন করে মোট ৩২০ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। প্রকল্পটি ২০১৫ সালের ৩০শে জুন শেষ হয়। এরপর থেকে ওই প্রকল্পে নিয়োজিত ৩২০ জন শিক্ষকের বেতন-ভাতাদি বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওই সকল শিক্ষকদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেন এবং তাদের বেতন-ভাতাদি প্রদানের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ও তার অধস্তন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ২০১৬ সালের ৭ই জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে একটি সভা করেন। সভায় স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর তা না করে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনার জন্য নতুন করে ডেইলি বেসিসে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয় এবং প্রস্তাব আকারে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এতে করে সমাপ্ত স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় নিয়োগকৃত শিক্ষকবৃন্দের বকেয়া বেতন-ভাতাদি ও চাকরির অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এর কোনো সুরাহা না করায় তারা হাইকোর্টে ২০১৬ সালের ১৮ই অক্টোবর একটি রিট মামলা করেন। যার রিট পিটিশন নং-১৩০৫২/২০১৬। পরে হাইকোর্ট শিক্ষকদের বকেয়া বেতন-ভাতাদি প্রদানের জন্য নির্দেশ দেন এবং চাকরিসহ সকল সুযোগ সুবিধা প্রদানের রুল জারি করেন। এর পরেও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বকেয়া বেতন-ভাতাদি প্রদান না করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। সুপ্রিম  কোর্ট হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে ২০১৭ সালের ৫ই জানুয়ারি রায় দেয়। যার সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং-৩৯৫৭/২০১৬। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনাকে অমান্য করে অদ্যাবধি কর্মরত শিক্ষকদের বেতন প্রদান করেনি যা দেশের সর্বোচ্চ আদালত মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে অসম্মান করা ও আদালত অবমাননার শামিল। এ অবস্থায় শিক্ষকবৃন্দের জীবন অসহনীয় হয়ে পড়েছে এবং ৩০ মাস বেতন-ভাতাদি না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অভাব-অনটন, ঋণগ্রস্ত, অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৬৬৪টি শূন্য পদ খালি আছে।  তার পরেও শিক্ষকদের স্থায়ী কোনো নিয়োগের ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অপরদিকে এসব শিক্ষকের অধিকার বঞ্চিত করে স্বয়ং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অশোক কুমার বিশ্বাসের আত্মীয়দের রংপুর ও মানিকগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার মধ্যে একজন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ভাতিজা সৌরভ দাস। সে রংপুর টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের খণ্ডকালীন স্থায়ী শিক্ষক (ইংরেজি)।
হাইকোর্টের রুলজারি: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক (ভোকেশনাল) এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়েছে। ৯ই জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি কে.এম. কামরুল কাদের এর যৌথ রেঞ্জ এই রুল জারি করেন। যার কনটেম্পট পিটিশন নং- ৫২৬/২০১৭। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন দোলন এই কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করেন। বাদীর পক্ষে ছিলেন মুহাম্মদ শামসুদ্দীন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অভিযোগের পাহাড়, অসহায় ইউজিসি

প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না আজ

মৈত্রী এক্সপ্রেসে শ্লীলতাহানির শিকার বাংলাদেশি নারী

‘২০৬ নম্বর কক্ষে আছি, আমরা আত্মহত্যা করছি’

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারালেন ঢাবি ছাত্র

পুলে যাচ্ছে সেই সব বিলাসবহুল গাড়ি

নীলক্ষেত মোড়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, এমপির আশ্বাসে স্থগিত

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর সফল করতে নির্দেশনা

নেতাকর্মীরা জেলে থাকলে নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তিন দিনের ধর্মঘটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ইডিয়ট বললেন মারডক

সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে

২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

বাসায় ফিরছেন মেয়র আইভী

‘আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে’

জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে: মোশাররফ