বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ২ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী শুরু

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫৭
গতকাল সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন সংলগ্ন মাঠে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী শুরু হয়েছে। তিন পর্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের গতকালের দুই পর্বের এই আয়োজনে অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন মুখ্য সচিব ও বিশিষ্ট কবি ড. কামাল আবু নাসের চৌধুরী, লেখক, কলামনিস্ট ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বিশিষ্ট নাট্য অভিনেতা, অনুবাদক ও লেখক খায়রুল আলম সবুজ, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, নৌ-পরিবহন সচিব ও বিশিষ্ট কবি আবদুস সামাদ, গ্রামীণফোন লিমিটেডের স্টেকহোল্ডার রিলেশনস, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক এস. এম রায়হান রশীদ প্রমুখ।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দদের নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নানান রঙের বেলুন আকাশে উড়িয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় ঢাকা মহানগরীর স্কুল পর্যায়ের ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রছাত্রীদের দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী উৎসব উদ্বোধন করেন। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত ঢাকা মহানগরীতে দুই দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণী উৎসবে তিনটি পর্বে ৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ছয় হাজার ১৯৪ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার দেয়া হবে। গতকাল সকালে পুরস্কার বিতরণী উৎসবের প্রথম পর্বে ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২১০২ জন ছাত্রছাত্রী পুরস্কার নিয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে পুরস্কার গ্রহণ করেছে ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০৭৫ জন ছাত্রছাত্রী।
আজ বিকাল ৩টায় ঢাকা মহানগরীর ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০১৭ জন ছাত্রছাত্রী অতিথিদের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত পুরস্কার প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তোমরা যারা বই পড়ে পুরস্কার পাচ্ছো, আমি বিশ্বাস করি তাদের মানসিক শক্তি অন্যদের তুলনায় অনেক উন্নত। তিনি আরো বলেন, সর্বোপরি বইগুলো পড়ে তোমরা অনেক মজা পাচ্ছো এবং তোমারদের সময় অনেক ভালো কাটছে। যারা জীবনের পুরোটা সময় আনন্দে কাটাতে পারে তারাই সেরা মানুষ আর একমাত্র বই-ই পারে মানুষের জীবন আনন্দে ভরিয়ে তুলতে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন মুখ্য সচিব ও বিশিষ্ট কবি ড. কামাল আবু নাসের চৌধুরী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, এই রেসকোর্স ময়দানে তোমাদের মতো বয়সে আমি আমার বাবার হাত ধরে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ শুনতে এসেছিলাম। সুতরাং আমিও ইতিহাসের সাক্ষী। আজ সেই ঐতিহাসিক মাঠে দাঁড়িয়ে তোমাদেরকে বলছি তোমরা যদি বই পড়, তাহলে মহাসমুদ্রের কল্লোল শুনতে পারবে। তিনি আরো বলেন, তোমরা বইয়ের পোকা হও, এটা আমি চাই না। আমি চাই তোমরা বইয়ের ফুল হও।
বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেই বাংলাদেশকে তোমাদেরই বিনির্মাণ করতে হবে। তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ।
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, কিন্তু প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে। তিনি আরো বলেন, তোমাদের বন্ধুদের মধ্যে যারা বই পড়ে না, তাদেরকে একটি মজার বই পড়ার জন্য উপহার দাও। দেখবে এইভাবে বই পড়ুয়াদের সংখ্যা বেড়ে যাবে।    
বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সহযোগী-সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, তোমরা বেশি বেশি করে বই পড়বে। আর তোমরা যদি বই পড়ার মাধ্যমে জেগে ওঠো, তাহলে দেখবে একদিন সত্যি সত্যিই বাংলাদেশ জেগে উঠবে।
বিশিষ্ট নাট্য অভিনেতা, অনুবাদক ও লেখক খায়রুল আলম সবুজ পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানান এবং বলেন, তোমাদের নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে হলে তোমাদেরকে বই পড়তে হবে। বই তোমাদের সঙ্গী  হোক।
নৌ পরিবহন সচিব ও বিশিষ্ট কবি আবদুস সামাদ বলেন, বই পড়ার মাধ্যমেই মানুষের মানসিক বয়স বাড়ে, চিন্তা করার শক্তি বাড়ে। বই পড়লে তোমরা আকাশের মতো উদার হতে পারবে। গ্রামীণফোন লিমিটেডের স্টেকহোল্ডার রিলেশনস, কর্পোরেট অ্যাফের্য়াসের পরিচালক এস.এম রায়হান রশীদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ও পুরস্কাপ্রাপ্ত সফল শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। স্বাগত বক্তব্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রাক্তন পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ পুরো বছরজুড়ে বইপড়া কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করা শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আরো বলেন, ঢাকা মহানগরীর প্রায় ৪০,০০০ ছাত্রছাত্রী বইপড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে ছয় হাজার ১৯৪ জন পুরস্কার পেয়েছে। তিনি আগামী বছরেও ছাত্রছাত্রীদের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক (প্রোগ্রাম) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘কোটার কারণে দেশের মেধাবীরা আজ বিপন্ন’

১০০০০০ অবৈধ বাংলাদেশিকে ফেরাতে প্রণোদনা দেবে ইইউ

ট্রাম্প প্রশাসন আটকে গেছে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে নিহত ১

মেয়র আইভী আশঙ্কামুক্ত

নেপথ্যে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

উপযুক্ত সময়ে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা

সহায়ক সরকারে বিএনপির অংশগ্রহণ থাকবে না

তিনি তখন টেলিফোন অন রাখতেন

টঙ্গীমুখী মানুষের স্রোত

‘চোখের সামনে বাবাকে মরতে দেখেছি বাঁচাতে পারিনি’

ওটা যেন আমার মৃত্যু পরোয়ানা ছিল

ভালো নেই বৃক্ষমানব মুক্তামণির পরিবারও দুশ্চিন্তায়

সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন আদায় করে ছাড়ব

‘সহায়ক সরকারে বিএনপির অংশগ্রহণ থাকবে না’

কারাবন্দি বাবাকে দেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল ছেলের